সেলিম রেজা সুজন হত্যার রায়ের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
ওয়াসিম সেখ,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ শহর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ফুটবলার সেলিম রেজা ওরফে সুজন হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়ার রায়ের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে খালাসপ্রাপ্ত দুই আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের হল রুমে, চৌরাস্তা এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত সেলিম রেজা সুজনের মা মোছা. মাজেদা খাতুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের চাচাতো ভাই মো. ওয়ালিদ সেখ, ভাই মো. আরিফ সেখ, ভাই রোকন এবং ছোট ভাই মো. হিমেল সেখ।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সেলিম রেজা সুজন পরিবারের সবার বড় ভাই ছিলেন। তার নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু প্রায় ১১ বছর পর মামলার রায়ে দুই আসামি খালাস পাওয়ায় তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
নিহতের স্বজনরা বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের রায় পুনর্বিবেচনা করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান।
এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন সেলিম রেজা সুজন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামচুজ্জোহা শাহানশাহ।
রায়ে পাবনা সদর উপজেলার আটুয়া হাউসপাড়া গ্রামের উম্মে জামিলা তিথী (৩৭) ও শাহজাদপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মনিরুল ফকির (৩৪)-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে শাহজাদপুর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের সাবেক পৌর মেয়র মো. নজরুল ইসলামের ছেলে মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (৪৪) এবং তিথীর ছোট ভাই মো. পিয়াস হোসেন (৩৫)-কে খালাস দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১ জুন বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সিরাজগঞ্জ শহরের মিরপুর উত্তর হাজীপাড়া এলাকায় সেলিম রেজাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. মাজেদা খাতুন বাদী হয়ে তার পুত্রবধূ উম্মে জামিলা তিথী, পিয়াস হোসেনসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার দিন দুপুরে সেলিম রেজা পুকুরে গোসল করতে যাওয়ার আগে তার স্ত্রী তিথী তাকে বোতলে করে শরবত দেন। শরবত পান করার পর ঘুম পেলে তিনি নিজ কক্ষে গিয়ে শুয়ে পড়েন। পরে তিথী বিভিন্ন অজুহাতে বাসা থেকে বের হয়ে যান। সন্ধ্যায় মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফিরে শিশুটি তার বাবাকে ঘরের মেঝেতে গলায় জখম অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।
পরে পরিবারের সদস্যরা সেলিম রেজাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মামলার এজাহারে ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি চাপাতি উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের মায়ের অভিযোগ ছিল, তিথীর সঙ্গে অন্য এক ব্যক্তির পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে পরিকল্পিতভাবে সেলিম রেজাকে হত্যা করা হয়েছে।
মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। বাদীপক্ষের দাবি, পরবর্তীতে আরও দুই ব্যক্তি জেলহাজতে থাকা আসামিদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তাদেরও গ্রেপ্তার করে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে বাদীপক্ষ দাবি করেছে।
রায় ঘোষণার পর আদালত এলাকায় বাদীপক্ষের লোকজন বিক্ষোভ করেন। তারা খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা ও মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান। এ সময় আদালত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
নিহত সেলিম রেজা সুজন শহর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডিশ লাইন ও বালুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পরিবারের সদস্যরা সেলিম রেজা সুজন হত্যার রায় পুনর্বিবেচনা করে প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি এ দাবিতে সিরাজগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।





