সরকারি হারানো অস্ত্র উদ্ধারে সরকারি আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চট্টগ্রামের কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন অধিনায়ক, র্যাব-৭, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং, সকাল ১১ টায় র্যাব-৭-এর চট্টগ্রাম কার্যালয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য কর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অধিনায়ক, র্যাব-৭, চট্টগ্রাম উপস্থিত চট্টগ্রামে কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে আন্তরিক শুভেচ্ছা, পরিচিতি পর্ব ও কুশল বিনিময় করেন। অধিনায়ক র্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর বিভিন্ন আভিযানিক সাফল্য তুলে ধরেন। পরবর্তীতে উক্ত সভায় র্যাব-৭, অধিনায়ক বলেন, “আজ আমরা এমন একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জরুরি বিষয়ে সমবেত হয়েছি, যা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার সাথে জড়িত। বিষয়টি হলো বিভিন্ন সময়ে থানা ও সরকারি দপ্তর থেকে হারানো অস্ত্র উদ্ধার। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে সম্প্রতি দেশব্যাপী বিশেষ সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সরকারি অস্ত্র কোনো সাধারণ বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি রাষ্ট্রের সম্পদ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান হাতিয়ার।”তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এই অস্ত্র যখন কোনো অপরাধী, দুষ্কৃতকারী বা স্বার্থান্বেষী মহলের হাতে চলে যায়, তখন তা পুরো সমাজের জন্য এক বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। অস্ত্র ভুল হাতে থাকলে সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা তীব্র হয়ে ওঠে। তাই এই হারানো অস্ত্র উদ্ধার করা শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সকলের নাগরিক দায়িত্ব।
র্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন, “অত্যন্ত আশার কথা হলো সরকার র্যাব এর নেতৃত্বে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে সরকারি হারানো অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এই অভিযান সফল করার উদ্দেশ্যে সরকার ঘোষণা করেছেন যে, কোনো নাগরিক যদি এই হারানো সরকারি অস্ত্রের সঠিক তথ্য দিতে পারেন, তবে তার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে ও নিরাপদে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরস্কার বিষয়ে তিনি জানান যে, (ক) রাইফেল, এসএমজি, এলএমজি এবং স্নাইপার এর জন্য ২লক্ষ টাকা, (খ) শটগান, পিস্তল এবং গ্যাসগান এর জন্য ৫০ হাজার টাকা, (গ) সাউন্ড গ্রেনেড এবং টিয়ার সেল এর জন্য ১ হাজার ৫ শত টাকা এবং (ঘ) সকলপ্রকার গোলাবারুদ (প্রতি রাউন্ড) এর জন্য ৫০ টাকা সরকার কর্তৃক পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, আমরা সমাজকে নিরাপদ করতে সচেতন হই। আপনার আশেপাশে যদি কোনো অবৈধ বা সরকারি হারানো অস্ত্রের সন্ধান পান, তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানান। আমাদের একটি সঠিক তথ্য একটি বড় ধরনের অপরাধ রুখে দিতে পারে এবং কোনো নিরপরাধ মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হলে অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। এই হারানো অস্ত্র উদ্ধার অভিযানকে সফল করতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের ত্রিমুখী সমন্বয় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। যেকোনো জাতীয় সংকটে বা আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে গণমাধ্যম এবং সাংবাদিক সমাজের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে অধিনায়ক বলেন, “সাংবাদিকরা সবসময়ই ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে আসছেন। হারানো সরকারি অস্ত্র উদ্ধারের এই বিশেষ অভিযানেও সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর হতে পারে। সাংবাদিকরা তাদের প্রতিবেদন, টকশো বা সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টের মাধ্যমে র্যাব বা যৌথ বাহিনীর এই বিশেষ পুরস্কার ও সুরক্ষার বার্তাটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। একই সাথে, পেশাদার ও সাহসী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে হারানো অস্ত্র কার হাতবদল হচ্ছে, কোথায় লুকিয়ে রাখা হচ্ছে বা কারা এর পেছনে মূল ইন্ধনদাতা—তা আড়ালে থাকা তথ্য সামনে নিয়ে আসতে পারে।”
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, কলম ও ক্যামেরার শক্তি অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী। সাংবাদিক সমাজ যদি তাদের পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে এই জননিরাপত্তামূলক অভিযানে শামিল হন, তবে খুব দ্রুতই আমরা সব হারানো অস্ত্র উদ্ধার করে একটি শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব। আসুন, আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করি এবং একটি অস্ত্র ও সন্ত্রাসমুক্ত শান্তিময় সমাজ গঠনে এগিয়ে আসি।





