শাহরাস্তির কাদ্রা গ্রামে দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিরোধ, মেল দরবার-শালিসেও মিলছে না সমাধান
এইচ এ বাবলু।।
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার কাদ্রা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বড় জমাদ্দার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সম্পত্তিগত বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মেল দরবার ও শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষ। বর্তমানে বিষয়টি থানা ও আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আলী মিয়ার দুই সংসারের দুই ছেলে—লুৎফর রহমান ও বদিউজ্জামান। পারিবারিক সম্পত্তির অংশীদারিত্ব এবং জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছে।
সম্প্রতি বদিউজ্জামানের ছেলে নুরুননবী (খোকা) তার বসতঘর মেরামতের উদ্যোগ নিলে লুৎফর রহমানের ছেলেরা এতে আপত্তি জানান বলে অভিযোগ ওঠে। বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি আবারও স্থানীয়দের আলোচনায় আসে।
শফিকুর রহমানগংয়ের দাবি, খোকার বসতঘরের একটি অংশ তাদের মালিকানাধীন জমির ওপর রয়েছে। তাই জমির প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ না করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা সংস্কার করা উচিত নয়। তারা আগে সীমানা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, নুরুননবী ও তার পরিবারের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে পূর্বপুরুষদের ভোগদখল অনুযায়ী নিজস্ব জায়গাতেই বসবাস করছেন এবং যে ঘরটি মেরামত করা হচ্ছে সেটিও তাদের দখলীয় ও ব্যবহারাধীন সম্পত্তির অংশ।
ভূমি রেকর্ড সূত্রে জানা যায়, কাদ্রা মৌজার ৯২ নম্বর খতিয়ানের ২৪৬ নম্বর দাগে মোট ৫ একর ৬৫ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে বদিউজ্জামানের নামে ৫২ শতক এবং লুৎফর রহমানের নামে ৮৭ শতক জমির মালিকানা উল্লেখ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট অংশের সুনির্দিষ্ট সীমানা ও দখল নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, কয়েক বছর ধরে বিরোধটি চলে আসছে। এ সময়ের মধ্যে একাধিকবার পারিবারিক বৈঠক, মেল দরবার ও গ্রামীণ শালিস অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে উভয় পক্ষই এখন আইনগত প্রতিকার চেয়ে আদালত ও থানার শরণাপন্ন হয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, পারিবারিক সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তির স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে জমির প্রকৃত মালিকানা, সীমানা ও দখল সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আদালত, ভূমি প্রশাসন এবং সরকারি রেকর্ডের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।
৩আর মিডিয়া পর্যবেক্ষণ:
দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধ সামাজিক সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর পাশাপাশি আইনি জটিলতাও বাড়িয়ে তোলে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি হলে এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে স্থানীয়রা আশা করছেন।




