সারাদেশ

পঞ্চগড়ে কৃষি কর্মকর্তার খোঁজ নাই, কৃষকের ফসল নষ্ট

একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (বিএস) নিয়মিত উপস্থিতি ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলেও অনেক সময় সময়মতো কৃষি বিভাগের পরামর্শ পাওয়া যায় না। নিয়মিত কৃষক গ্রুপের সভা না হওয়া, মাঠ পরিদর্শন না করা এবং মৌসুম ভিত্তিক চাষাবাদে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
এমন অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউনিয়নের চিলাপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, কোনাবালাপাড়া, সর্দারপাড়া, বালাপাড়া, মায়াপাড়া, অমরখানা ও সবুজপাড়া এলাকার কৃষকদের অনেকেই জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নিয়মিত এলাকায় পাওয়া যায় না। ফলে ফসলের সমস্যা দেখা দিলেও তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মায়াপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল ইসলাম সাংবাদিকদের তার ক্ষতিগ্রস্ত ধান খেতে নিয়ে যান। সেখানে তিনি জানান, তার ধানের বেশিরভাগ অংশে পোকার আক্রমণ হয়েছে। প্রতিবছর প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে ধান, পাট ও ভুট্টার আবাদ করলেও ফসলের এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএসের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ বা সহযোগিতা পাননি তিনি।
দুলাল ইসলাম বলেন, ধানে পোকার আক্রমণ হয়েছে, অনেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু বিএস কখনো খোঁজ নেননি। কীভাবে এই পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করা যায়, সে বিষয়েও কৃষি বিভাগের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ পাননি।
মায়াপাড়া গ্রামের কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রতিবছর প্রায় ২২ বিঘা জমিতে বেগুন, শাকসবজি ও ধান আবাদ করেন। কিন্তু চাষাবাদে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো পরামর্শ পাননি।
অমরখানা গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে আবাদ করছেন। সরকারের কৃষি প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার কথা শুনলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএসের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাননি। সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ২২ থেকে ২৩ বছর ধরে কৃষিকাজ করছেন। কিন্তু তাদের এলাকায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএসকে নিয়মিত দেখেননি।
একই অভিযোগ করেছেন চিলাপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া ও সবুজপাড়া এলাকার কয়েকজন কৃষক। তাদের দাবি, কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত সভা, মাঠ পরিদর্শন এবং রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে সময়মতো পরামর্শ নিশ্চিত করা হলে ফসলের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বড়শশী ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান সরকারের কাছে কৃষকদের এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক কৃষক তাকে চিনতে নাও পারেন। তবে যারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাদের কৃষি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে গ্রামের কিছু কৃষক মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বোদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুন্নবী রাশেদ বলেন, কৃষকদের অভিযোগের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। অভিযোগগুলো যাচাই করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,