পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের অভিযোগ, প্রশাসনের সহায়তা কামনা
একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে মা হামিদা বেগম অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট।
৩ অক্টোবর সোমবার সকালে মা হামিদা বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে এ অভিযোগ দেন। অভিযোগকারী পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের ফুলবাড়ি বাজারের মৃত সুন্দরদীঘি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ শাহ এর স্ত্রী হামিদা বেগম।
লিখিত অভিযোগে মা হামিদা বেগম জানান, তার ছেলে জুলফিজুর রহমান (৩৫) প্রায় ১৫ বছর থেকে মাদক সেবন করতো। আজিজ শাহ মৃত্যুর পর হামিদা বেগম অসহায় হয়ে পড়ে। আমার স্বামীর সকল ব্যবসা বানিজ্যের টাকা দিয়ে মাদক সেবন করতো। ইতিপূর্বেও আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যদের মারধর করতো। এ ঘটনা এলাকার অনেকেই জানেন।
তিনি আরও বলেন, আমার বাড়ির লোকজন ছেলে জুলফিজুর রহমানকে মাদক সেবনে বাঁধা প্রদান করলে আমাকেসহ তার নিজের স্ত্রী সন্তানদের মারধন করতো।
হামিদা বেগম বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমার স্বামী নামে থাকা সারের ডিলারশীপ আমার বড় ছেলে ও মেয়েরা একত্রিত হয়ে পঞ্চগাড় কোর্টে গিয়ে এ্যাফিডেভিট এর মাধ্যমে আমার ছোট ছেলে জুলফিজুরাকে দেয়া হয়। পরবর্তীতে সে সারের ডিলারশীপটি ও আমার স্বামীর অন্যান্য ব্যবসা বানিজ দেখাশোনা করা শুরু করে। ডিলারশীপ ও অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনা করিলেও সে আমার কোন খোজ খবর রাখে না এবং আমার কোন ভরণ পোষণ দেয় না। চিকিৎসার জন্য কোন টাকা পয়সা দেয়না। বর্তমানে আমার স্বামীর রেখে যাওয়ায় সারের ডিলারশীপটি মাদকাসক্ত ছেলে জুলফিজুর রহমান পঞ্চগড়ের অজ্ঞাতনামা একজন সার ব্যবসায়ীর নিকট চুক্তি করে দিয়েছে। এরপর থেকে পুরোদমে সারের ডিলারশীপের কমিশন ও ব্যবসার টাকা দিয়ে মাদক সেবন করে। বাড়ীর পাশে মোস্তফার বাড়ীর একটি রুম আড়া নিয়ে সেখানে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি ও বিভিন্ন জায়গা থেকে মেয়ে এনে ব্যবসা শুরু করে। মাদক সেবন করা কালে মোস্তফা ও তার স্ত্রী তাকে সহযোগিতা করে। তাদের ইন্ধনেই চরে এসব কাজ।
গত ২ নভেম্বর রাতে নেশাগ্রস্থ ও বেসামাল হয়ে বাড়ীতে এসে তার স্ত্রী-সন্তানকে মারধর করা শুরু করে। এসময় মা হামিদা বেগম বাঁধা প্রদান করলে তাকেও মারধর করে।
হামিদা বেগম বলেন, পূর্বে আমার স্বামীর নামে থাকা সারের ডিলারশীপটি আমার নামে দিলে বৃদ্ধ বয়সে নিজের ঔষধপত্রের খরচ বহন করতে পারতাম।
জুলফিজুরের স্ত্রী সম্পা আকতার বলেন, জুলফিজুর প্রায় ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাদক সেবন ও বিক্রি করতো। এখন সে বাড়িতে ঘরের ভিতরেই বসে মাদক সেবন করে। আমরা এর প্রতিবাদ করলেই আমাদের মারধর করে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদ জানান, সার নিজে উত্তোলন করে তা সরবরাহ করে। ডিলারশীপ জুলফিজুর রহমান চালাচ্ছেন বলে জানাচ্ছেন। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে হামিদা বেগম জানান, জুলফিজুর সব সময় নেশাগ্রস্থ থাকে। লাইসেন্সটি সে না চালিয়ে আরেক ব্যক্তির নিকট বন্ধক রেখেছেন।
দেবীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) প্রবীর কুমার সরকার জানান, ইউএনও স্যার যদি আমাদের জানান তাহলে আমাদের অফিসার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখবে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, মায়ের দেয়া অভিযোগটি আমরা দেখে তদন্ত করে ব্যবস্তা নেয়া যায় কিনা। পরিবারের সদস্যদের বলছি তাকে পুনরায় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে রাখার জন্য। যেন সহজে সে বের হতে না পারে। পুলিশ প্রশাসন ফুলবাড়ি বাজারে গিয়ে বিষয়টি দেখভাল করছেন। তারাও মাদকাসক্ত জুলফিজুরের বিষয়টি জানেন।





