ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিবাদে নতুন অসংগতি মানিক বণিকের পরিবারের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগ আরো জোরালো হচ্ছে
কাউছার আহমেদ টিপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা প্রতিনিধি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়া ও বনিকপাড়া এলাকায় প্রভাবশালী একটি চক্রের দীর্ঘদিনের আধিপত্য, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদে মানিক বণিক সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া লিখিত প্রতিবাদে দাবি করেন, তার পরিবার কোনো ধরনের মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া নথি অনুযায়ী পুলিশের জি.আর ৬৮২/২০২০ মাদক মামলার পলাতক আসামি, ২০২১ সালের ৭ জুন তার ভাতিজা সুধীপ বণিক (শান্ত) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেলহাজতে যান এবং একই বছরের ২৯ জুন হাইকোর্টের ক্রিমিনাল মিস কেস নং ২৬২৪৭/২১–এ জামিন পান; পরবর্তীতে ১৮ জুলাই তিনি কারামুক্ত হন। একইভাবে, মানিক বণিকের আরেক ভাতিজা সৌরূপ বণিকের মালিকানাধীন ‘ঝলক শিল্পালয়’ থেকে পুলিশ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে এবং সৌরূপ বণিকের একজন কারিগরকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরন করেন। তবে বাজার এলাকায় কথিত আছে, মানিক বণিক তার প্রভাব খাটিয়ে এবং টাকা খরচ করে ভাতিজা সৌরূপ বণিককে মামলার ঝামেলা থেকে রক্ষা করেছেন।
মানিক বণিক দাবি করেন তিনি অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন, তবে অনুসন্ধানে পাওয়া ছবি ও ভিডিও প্রমাণ অনুযায়ী ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর–বিজয়নগর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর পক্ষে তিনি নৌকার হয়ে প্রচারণায় অংশ নেন, ছন্দা স্টুডিওর সামনে নির্বাচনি মিটিং করেন এবং সেই সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লোকমান হোসেন এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা বাবু। পাশাপাশি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভনের নির্বাচনী প্রচারণায়ও তিনি এবং তার ঘনিষ্ঠরা যুবলীগ সভাপতি পদপ্রার্থী ভিপি হাসান সারোয়ারকে সাথে নিয়ে ছন্দা স্টুডিওর পিছনে ভাতিজা সৌরূপ বণিকের বাসার একটি কক্ষে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন, যারও ছবি ও ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মানিক বনিকের প্রভাব ব্যবহারের মাধ্যমে তাঁর ছেলে রাজীব বনিক (বাসন) আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কাজীপাড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে, এলাকায় আরও অভিযোগ রয়েছে—চক্রটির অন্যতম সদস্য,কালীবাড়ি মোড় সুজন ঘোষের সেলুনে নিয়মিতভাবে জুয়া ও মাদক লেনদেন চলে, যার কারণে আশপাশের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ আছে তারা বিগত দিনে স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলা দিয়েছে তাদের।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি সংবাদটিকে মিথ্যা ও মনগড়া দাবি করলেও ঘটনাসংশ্লিষ্ট নথি, আদালতীয় তথ্য ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের দৃশ্যমান প্রমাণ উভয় পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ সৃষ্টি করেছে, যা পুনরায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।




