কক্সবাজার সৈকতে প্লাস্টিক দানব: দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতার অভিনব উদ্যোগ
আলফাজ মামুন নুরী
কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে বালুর বুক চিরে উঠে এসেছে বিশাল এক ভাস্কর্য, যাকে বলা হচ্ছে ‘প্লাস্টিক দানব’। দেখতে প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর মতো হলেও এটি কোনো জীব নয়; তৈরি করা হয়েছে উপকূল থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ৬ মেট্রিক টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে।
এই অভিনব শিল্পস্থাপনার উদ্দেশ্য ,প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা সরাসরি মানুষের সামনে তুলে ধরা।
বিস্ময় ও সচেতনতার সমন্বয়ে শিল্পকর্ম
বুধবার সন্ধ্যায় ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম, পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজিম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এটি নির্মাণ করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।
সমুদ্র দূষণের প্রতীকী প্রতিবাদ,
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক মুহাম্মদ মোবারক জানান,মানুষ প্রতিদিন যেসব প্লাস্টিক সমুদ্রে ফেলছে, সেগুলোই ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে দানবে রূপ নেবে। তাই আমরা এ বার্তা ছড়িয়ে দিতেই দানবকে পুনরায় ফিরিয়ে এনেছি।
তিনি আরও জানান, আগের তুলনায় এবার ভাস্কর্যটি আরও ভয়ংকর ও বড় করা হয়েছে।
১৫ দিনে তৈরি ৪৫ ফুট উচ্চ প্লাস্টিক ভাস্কর্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের তরুণ শিল্পীরা,অন্তু, আবীর, নির্ঝর, উচ্ছ্বাস ও রিয়াজ ,১৫ দিন ধরে কাজ করে স্থাপনাটির নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন। সহায়তা করেছেন আরও আটজন কারিগর।
ভাস্কর আবীর বলেন,সমুদ্র যেসব প্লাস্টিক বারবার তীরে নিয়ে আসে, আজ সেগুলোই প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই মানুষ দৃশ্যমান বার্তায় পরিবর্তন শুরু করুক।
পর্যটকদের অসচেতনতা বড় চ্যালেঞ্জ
প্রতিদিন হাজারো পর্যটক সৈকতে ভিড় করেন, কিন্তু অনেকেই ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট ও পলিথিন ফেলে যান সৈকতজুড়ে,যা শেষ পর্যন্ত সমুদ্রে পৌঁছে নষ্ট করছে সামুদ্রিক পরিবেশ।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আল আমিন বলেন,এ ভাস্কর্য দেখে বুঝলাম প্লাস্টিক শুধু নোংরা করে না,জীববৈচিত্র্য, এমনকি মানুষের শরীরেও বিষ ঢুকিয়ে দেয়।
বিদ্যানন্দের গভর্নিং বডির সদস্য জামাল উদ্দিন জানান ,গত তিন বছরে আমরা রিসাইকেল করেছি ৫০০ মেট্রিক টন প্লাস্টিক। সঠিক ব্যবস্থাপনায় এগুলো সম্পদে পরিণত হয়; আর সমুদ্রে ফেললে হয়ে ওঠে বিপর্যয়।
তিন মাস থাকবে প্রদর্শনী
প্রদর্শনী চলাকালে পর্যটকদের জন্য থাকবে—
• প্লাস্টিক বর্জ্যভিত্তিক ভাস্কর্য প্রদর্শনী
• পরিবেশ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান
• সৈকত পরিষ্কার অভিযান
• পরিবেশবান্ধব পর্যটনবিষয়ক আলোচনা
এডিএম মো. শাহিদুল আলম বলেনএই প্রদর্শনী শুধু শিল্প নয়, এটি আচরণ পরিবর্তনের আন্দোলন।
এখনই পরিবর্তন না আনলে ভবিষ্যৎ বিপন্ন, জেলা প্রশাসক
জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন ,কক্সবাজারকে প্লাস্টিক দূষণ থেকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও পর্যটন সেক্টরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে সমুদ্রের বালুচরে দাঁড়ানো প্লাস্টিক দানব যেন এক নীরব বার্তা দিচ্ছে,পৃথিবী আর বর্জ্য বহন করতে পারছে না এখনই থামতে হবে।





