শাপলা কলি, ধানের শীষ, দাড়িপাল্লা—কবিরহাটে ভোটের ঢেউ, সমীকরণে উত্তেজনা।
জয়া হাসান নোয়াখালী:
নোয়াখালী-৫ (কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জ ও সদর আংশিক) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের সমীকরণ ইতিমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন প্রার্থী—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর (শাপলা কলি), জামায়ত ইসলামি থেকে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন (দাড়িপাল্লা) এবং বিএনপি থেকে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম (ধানের শীষ) আর তিনি ছাড়া কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে কোন প্রার্থী নেই এখনো পর্যন্ত।
সম্প্রতি সদর উপজেলার কিছু এলাকা থেকে নেয়াজপুর ও অশ্বদিয়াকে কেটে কবিরহাট উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে, যা ভোটের আঞ্চলিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। হুমায়রা নূরের জন্মস্থান অশ্বদিয়াতে হওয়ায় আঞ্চলিকতার দিক থেকে তাকে কিছুটা সুবিধা থাকতে পারে। কোম্পানীগঞ্জ থেকে একক প্রার্থী ফখরুল ইসলাম এবং কবিরহাটের অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের জন্য চ্যালেঞ্জ বেশি।
ভোটের ইতিহাসও সমীকরণকে গভীর করে তোলে। ২০০১ সালে **কবিরহাট থেকে একরামুল করিম চৌধুরী “সদর ঐক্য” প্রার্থী হিসেবে দেওয়াল ঘড়ি মার্কা নিয়ে ভোটে অংশ নিয়ে আঞ্চলিকতার ঢেউ সৃষ্টি করে বিপুল ভোট সংগ্রহ করেছিলেন। এর ফলে তখনকার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের পরাজিত হন। সেই অভিজ্ঞতা আজকের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নোয়াখালী-৫ এর সাধারণ ভোটারা বলেন,
“আমরা চাই এমন প্রার্থী, যারা সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে আমাদের অধিকার ও এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করবে। হুমায়রা নূরের প্রতিশ্রুতি শুনে আমরা আশাবাদী। তবে অন্য প্রার্থীরাও আঞ্চলিক সমীকরণে শক্তিশালী, তাই ভোটের ফলাফল অনিশ্চিত মনে হচ্ছে।”
হুমায়রা নূর নিজেও ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন,
“সততা, ন্যায়পরায়ণতা আর অন্যায়ের সঙ্গে আপসহীনতাই আমার শক্তি। আমাকে শাপলা কলিতে ভোট দিয়ে বিজয়ী করলে এলাকার উন্নয়ন, অধিকার ও জনগণের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করাই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।”
নতুন ভৌগোলিক সংযোজন, আঞ্চলিক পরিচয়, প্রার্থীর সততা এবং ইতিহাসের প্রভাব মিলিয়ে নোয়াখালী-৫ আসনের ভোট এবারও উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





