সারাদেশ

আওয়ামী লীগ মাঠের বাইরে, নোয়াখালী–৫ এ শুরু হয়েছে আসল লড়াই: ভোট ব্যাংক নিয়ে কে এগিয়ে?

জয়া হাসান, নোয়াখালী- নোয়াখালী–৫ (কোম্পানীগঞ্জ–কবিরহাট ও সদর উপজেলা আংশিক) জাতীয় সংসদ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। জেলা রিটার্নিং অফিসার শফিকুল ইসলাম একে একে প্রধান রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করার পর আসনটিতে এখন মূল আলোচনায় এসেছে একটি প্রশ্ন—আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় তাদের বিশাল ভোট ব্যাংক এবার কোন দিকে যাবে?
জেলা রিটার্নিং অফিসার শফিকুল ইসলাম নোয়াখালী–৫ আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী বেগম হাসনা জসিম উদদীন মওদুদ এর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এ সিদ্ধান্তের পর তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে বেগম জিয়াকে কমলা রঙের সিল্কের শাড়ি পরে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখেন। ঘুম থেকে উঠে জানতে পারেন, একটি স্বাধীন দল হিসেবে তার প্রার্থিতা অনুমোদিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বেগম জিয়া তাকে এবং তার কর্মীদের দোয়া করেছেন এবং তিনি তার প্রিয় ম্যাডামের আত্মার শান্তি কামনা করেন। এই স্ট্যাটাস ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
একই সঙ্গে নোয়াখালী–৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ এর মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। তিনি নাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আইন পেশায় পরিচিত এই প্রার্থী ইতোমধ্যে মধ্যপন্থী ভোটারদের মধ্যে আলোচনা তৈরি করেছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন এর মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। প্রতিক্রিয়ায় অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন বলেন, নোয়াখালী–৫ আসনের জনগণের পাশে তিনি অতীতেও ছিলেন, এখনো আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন ইনশাআল্লাহ। তার বক্তব্য জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের নতুন করে উজ্জীবিত করেছে।
অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব ফখরুল ইসলাম এর মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ প্রসঙ্গে কবিরহাট পৌরসভার বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু বলেন, দলের নির্যাতিত, নিবেদিত ও আদর্শবান নেতা-কর্মীরা কখনো দলের বাইরে যেতে পারে না। তিনি দাবি করেন, প্রায় ১৮ বছর রাজপথে তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং এখনও সবাই ধানের শীষের পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন, ইনশাআল্লাহ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালী–৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫ হাজার ৭১৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১০ হাজার ৩৮৮ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩২৭ জন। পুরো আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৩২টি। এই বড় ভোটার সংখ্যা যেকোনো প্রার্থীর জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ এবং বড় সম্ভাবনা।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, ভোট ব্যাংক যাবে কোন পথে?
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় তারা সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ফলে নোয়াখালী–৫ আসনে আওয়ামী লীগের যে বড় ও সংগঠিত ভোট ব্যাংক রয়েছে, সেটি কোন দিকে ঝুঁকবে তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ঐ ভোট ব্যাংক একমুখী হবে না। একটি অংশ আদর্শগত কারণে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আবার একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত সম্পর্ক, স্থানীয় প্রভাব ও প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে ভোট দিতে পারে স্বতন্ত্র প্রার্থী বেগম হাসনা জসিম উদদীন মওদুদ এর দিকে। অন্যদিকে, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের দিকেও এই ভোট ব্যাংকের একটি অংশ  যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরাও এই পরিস্থিতিকে নিজেদের জন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে জাতীয় পার্টি(নাঙ্গল) আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত মিত্র হিসাবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের বিচ্ছিন্ন ভোট যার সাথে যুক্ত হোক ফলাফলে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে নোয়াখালী–৫ আসনের নির্বাচন এবার শুধু প্রার্থীদের লড়াই নয়, বরং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক কোন দিকে প্রবাহিত হয় তার ওপরই নির্ভর করছে পুরো নির্বাচনের গতিপথ। এই আসনের ফলাফল তাই জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,