মাদারীপুরে অবৈধভাবে মাটি কাটছে প্রভাবশালীরা, ভাঙ্গনের ঝুকিতে রয়েছে সড়ক
সাব্বির হোসাইন আজিজ, মাদারীপুরঃ মাদারীপুর সদর উপজেলার একটি সড়কের পাশ থেকে অনুমোদন ছাড়াই মাটি কাটছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। অবৈধভাবে দিনরাত করে ভেকু মেশিন দিয়ে জমি খনন করে সেই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইটের ভাটায়। এতে চরম ঝুকির মুখে রয়েছে রাজার হাট এলাকার পাকা সড়কটি। এছাড়াও কেটে নেওয়া হচ্ছে নদীর মাটিও। ট্রাক ও ট্রলিতে মাটি পরিবহন করায় ভেঙে যাচ্ছে রাস্তা। ধুলোবালিতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে খোয়াজপুর ইউনিয়ন চর গোবিন্দপুর রাজারহাট এলাকার যাওয়ার পথে (পশ্চিম দিকে) পাকা সড়কের উওর পাশে মাটি কাটার চিত্র প্রতিবেদকের চোখে পড়ে। এই স্থানে অনুমোদন ছাড়াই ভেকু মেশিন (এস্কেভেটর) দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলছে গত তিনদিন ধরে। পরে কেটে নেওয়া মাটি কয়েকটি মিনি ট্রাকে ও ট্রলারে করে নেওয়া হয় পাশের এলাকার বিভিন্ন ইটের ভাটায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শামিম চৌকিদার নামের জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার ক্ষমতার দাপটে রাজার হাট ও আশেপাশের এলাকায় কালাম মোল্লা ও জুলহাস সরদার নামের দুই ব্যবসায়ী অনুমোদন ছাড়াই সড়কের জমির মাটি কেটে বিক্রি করছেন। বিক্রেতারা প্রতি পাওয়ার ট্রিলার মাটি বিক্রি করছেন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে। প্রতি মিনি ট্রাক ভর্তি মাটি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকায়। মাটি বহন করার সময় এসব গাড়ির কারণে আশপাশের জমির ফসলও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তরা জানান, তাদের মাটি কাটার অনুমোদন নেই। অনুমোদন ছাড়া কিভাবে মাটি কাটছেন জানতে চাইলে কোনো উত্তর দিতে পারেননি তারা। বলে আপনাদের সাথে পরে যোগাযোগ করে দেখা করবো। আমাদের নেতা শামিম শামিম চৌকিদার, তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
এসব এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাকা সড়কের জমিতে স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তি করে মাটি বিক্রি করছেন প্রভাবশালীরা।
মাটি বহনকারী বিভিন্ন যানবাহনের দাপটে রাস্তাগুলোর ক্ষতি হচ্ছে। পাশিপাশি মাটি বহন করার সময় ধুলাবালিতে সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষজনকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও বৃষ্টি হলে সড়কটি যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমরা প্রকাশে বলতে গেলে ওরা আমাদের হেনেস্তা করবে।
স্থানীয় আদি সরদার, হুমায়ুন সরদার আহসান বেপারী এরা জানান, যারা মাটি কাটে তারা অনেক প্রভাবশালী তাদের বাঁধা দিতে গেলে তারা উল্টো আমাদের মারধর করতে আসে। তাদের কারণে এখন আমাদের রাস্তাটা ভেঙে যাবে। আমরা প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, এখনো মাটি খনন চলছে কিনা সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




