ড্রেজার খেকোদের বিরুদ্ধে অবশেষে মামলা চরলাপাংয়ে ফসলি জমি ধ্বংসের অভিযোগে ১১ জনের নামসহ এজাহার, অজ্ঞাত আরও ১০–১২ জন
মাজহারুল ইসলাম বাদল।
দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ক্ষোভ আর প্রতিবাদের পর অবশেষে আইনের আওতায় এলো অবৈধ ড্রেজার চক্র। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে ফসলি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে প্রশাসন।
প্রভাবশালী চক্রের দাপটে নিঃস্ব কৃষক
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরলাপাং এলাকার বিস্তীর্ণ তিন ফসলি জমিতে দিনের পর দিন ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চালিয়ে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষকেরা পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে। অভিযোগ রয়েছে, ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয়দের মুখ বন্ধ রাখা হতো।
এজাহারে যাদের নাম
মামলার এজাহার অনুযায়ী নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন—
পায়েল মোক্তার (৪৫), রিপন মিয়া (৪৮), মাসুদ মিয়া (৪৫), ঈমান মিয়া (৪০), নয়ন মিয়া (৩৫), জাহাঙ্গীর (৪০), রিজন মিয়া (২৫), রুবেল (৩০), নাজিমুদ্দিন (৪০), ফারুক মিয়া (৩৫) ও ইবি মিয়া (৩০)।
এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নরসিংদী থেকে লোকাল চক্র—তদন্তে নতুন তথ্য
এজাহার পর্যালোচনায় দেখা যায়, কয়েকজন আসামি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাসিন্দা। এতে স্পষ্ট হয়েছে—এটি শুধু স্থানীয় নয়, আন্তঃজেলা বালু সিন্ডিকেটের অংশ। তদন্তে এই চক্রের অর্থনৈতিক লেনদেন ও পৃষ্ঠপোষকদের খোঁজে নামছে প্রশাসন।
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের তথ্য বহু আগেই প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয়। এতে ড্রেজার খেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অবশেষে মামলা হলেও প্রশাসনিক গাফিলতির বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা—দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
একাধিক কৃষক জানান,
“মামলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমরা চাই শুধু কাগজে-কলমে নয়—ড্রেজার বন্ধ হোক, জড়িতদের কঠোর শাস্তি হোক।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান এবং অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয়দের আশা, চরলাপাংয়ের এই মামলা নবীনগরজুড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হয়ে উঠবে।




