মাদারীপুর যেন রক্তাক্ত জনপদ, সংঘর্ষে বারবার প্রাণহানি ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ
সাব্বির হোসাইন আজিজ, মাদারীপুরঃ মাদারীপুর পৌর শহরের নতুন মাদারীপুর এলাকা যেন দিন দিন পরিণত হচ্ছে এক রক্তাক্ত জনপদে। কিছুদিন পরপরই সেখানে ঘটছে সংঘর্ষ, বোমা বিস্ফোরণ ও সহিংসতার ঘটনা। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান দ্বন্দ্বে বারবার ঝরছে প্রাণ, আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিরীহ সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি আবারও এই এলাকায় ঘটেছে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মঙ্গলবার ১০ মার্চ সকালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আলমগীর হাওলাদারকে নামে একজনকে। তিনি সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের জেরে মঙ্গলবার রাতেই এলাকায় আবারও সহিংসতার আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আলমগীর হাওলাদারের সমর্থকরা প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে প্রায় শতাধিক বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ১১ মার্চ বুধবার সকালে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, মাদারীপুর শহরের নতুন মাদারীপুরে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে চলছে এ-ই সংঘর্ষের ঘটনা। এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ শ্রমিক দলের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এই এলাকায় ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুন্সিকে, তিনি মাদারীপুর ২ নং ওয়ার্ড পৌর বিএনপি’র সভাপতি হাসান মুন্সির ভাই। প্রায় এক বছর পর একই দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় এবার নিহত হলেন তার প্রতিপক্ষ আলমগীর হাওলাদার। এঘটনার পরে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লাবলু হাওলাদার ও হাসান মুন্সীর ঘরসহ অন্তত শতাধিক বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তবে ইট ও গাছ ফেলে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পোহাতে হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবার সংঘর্ষের পর কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও পরে আবার নতুন করে শুরু হয় সহিংসতা।
নতুন মাদারীপুরের সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যেদিয়ে প্রতিনিয়ত দিন কাটাচ্ছেন। তাদের দাবি, দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে এই রক্তাক্ত দ্বন্দ্ব থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।
ঢাকা বিভাগের ডিআইজি মোঃ রেজাউল করিম মল্লিক রেজা হত্যাকাণ্ডের জেরে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের পরিদর্শনের কালে তিনি বলেন, এ সকল কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না।





