আর্থিক এবং নারী কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে অধ্যাপক আল-ফোরকান কি পারবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব দিতে
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয় এর জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান-কে ঘিরে আর্থিক অনিয়ম, অনৈতিক সম্পর্ক ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী রাজনৈতিক সুবিধাভোগের সংশ্লিষ্টতার নানা অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) বা উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) পদে বিশ্ববিদ্যালয়টির নানান আলোচিত ব্যক্তিত্বদের সাথে তার প্রার্থিতা কে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে সমালোচনার ঝড় বইছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর দাবি, ফ্যাসিস্ট আমলে সাবেক ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর কাছ থেকে তিনি বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন। এবং ঐ সময়ে বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করার মধ্য দিয়ে তার এত বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রাচুর্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সাথে সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে তিনি পারসেন্টেজ বা কমিশনের বিনিময় একাধিক কোটি টাকার প্রজেক্ট ভাগিয়ে নিয়ে এসেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে, তারই বিভাগের এক অধ্যাপকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, চবিতে বিগত সময়ে গ্রিন হাউজ প্রজেক্টের খাতে ব্যয় হওয়া অর্থ জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের নামে বরাদ্দ আসলেও, তৎকালীন সময় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান এবং তারই ঘনিষ্ঠ বিভাগটির আরেক অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা আঁখি যোগসাজশে নিজেদের ক্ষমতার জোরে তা দখল করে নেন।
তথ্যদাতার বরাতে আরও জানা যায়, ওবায়দুল কাদের এবং মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ঘনিষ্ঠ সহচর- চবির ছাত্রলীগ থেকে উঠে আসা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ কমিটির নির্বাচিত সদস্য, লীগনেত্রী অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা আঁখির সাথে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকানের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি বিভাগটির এক রুমে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে এই যুগল ধরা পড়লে শিক্ষার্থীরা তাদের আটক করে তালাবদ্ধ করেও রেখেছিল। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান এবং অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা আঁখির মধ্যকার এই অবৈধ সম্পর্ক এবং আর্থিক কেলেঙ্কারিতে ভাগীদারির ঘটনা বিভাগটির শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রবীণ শিক্ষার্থীদের কাছে খুবই প্রসিদ্ধ। এছাড়াও ফ্যাকাল্টির অন্যান্য বিভাগেও রয়েছে উক্ত ঘটনা সম্পর্কে জানা একাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী।
আরও জানা যায়, জুলাইয় বিপ্লবের স্বপক্ষে ছিলেন না অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান এবংকি তার বিভাগ থেকে ২৪ এর ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের তিনি পরীক্ষার রুমে ডেকে নিয়ে হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন। এছাড়াও, পূর্বে ফেসিস্ট আমলে আওয়ামীলীগের বিশেষ সুবিধাভোগী হওয়া সত্ত্বেও ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাথে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতে থাকেন। অতীতে তার বিএনপি’র সাথে দলীয় সম্পৃক্ততা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী জানান, “উনি ৫ই আগষ্ট ২০২৪ আগে ফোরামের মিটিংয়ে খুব একটা আসেন নাই। এখন আসতেছেন। অন্যকোন বিষয়ে আমার মন্তব্য নাই।”
তথ্য রয়েছে, লীগের ক্ষমতা কালীন সময় চূড়ান্ত সুবিধাভোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মান্যবর উপাচার্য (ভিসি) বা উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) পদের জন্য ব্যাপক দৌড়ঝাপ করছেন এবংকি এর পিছনে তার ৩ কোটি টাকা ব্যয় করার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকানের আনুষ্ঠানিক কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের বিতর্কের মাঝে প্রশ্ন থেকেই যায়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার বিরোধী ২৪ এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া এবং শহিদ মোঃ ফরহাদ হোসেনর ক্যাম্পাসের নেতৃত্ব কি আর্থিক এবং নারী কেলেঙ্কারি সহ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সম্পৃক্ততার দায় নিয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকানের দ্বারা করা সম্ভব?





