=খাল পুনঃখনন হলে বদলে যাবে কৃষি ও অর্থনীতির চিত্র:- আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম
খাল পুনঃখননের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, খালগুলো পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন করা গেলে দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়বে, পানির সুষ্ঠু প্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
রবিবার চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার মলিয়াইশ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলধারা খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বামনসুন্দর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে কস্টেড অ্যান্ড বাজেটেড, অর্থাৎ নির্দিষ্ট ব্যয় নির্ধারণ ও বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এত বড় কর্মসূচি একদিনে শেষ করা সম্ভব নয়, তাই পর্যায়ক্রমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একটি খালের পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং এতে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। ফলে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
খাল দখলমুক্ত করার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক খাল অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে এসব খালের সীমানা নির্ধারণ বা ডিমারকেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যেখানে সরকারের মালিকানাধীন খাল রয়েছে সেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দখল করে রাখতে পারবে না। সীমানা নির্ধারণের পর আইন অনুযায়ী খাল পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা এবং দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে আনা। কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো খাল খনন প্রকল্পও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন এমপি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (সেচ) মুহাম্মদ বদিউল আলম সরকার, বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মীরসরাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার।
এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।





