মাদারীপুরে ৬টি স্বর্ণের দোকানসহ ৮ দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, কোটি টাকার ক্ষতি
সাব্বির হোসাইন আজিজ, মাদারীপুরঃ মাদারীপুরে বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের সুযোগে ৬টি স্বর্ণের দোকানসহ মোট ৮টি দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসময় ডাকাতদল তালা ভেঙে দোকানে ঢুকে সিন্দুকসহ কয়েক কোটি টাকার মুল্যের স্বর্ণালঙ্কার, রুপা ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। বাধা দিতে এগিয়ে আসায় এক ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি মাদারীপুর সদর উপজেলার হাউসদি বাজারে শনিবার ১৮ এপ্রিল মধ্যরাতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ বাড়ি চলে যান।শনিবার ভোররাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে একদল মুখোশধারী ডাকাত মিনি ট্রাক নিয়ে সদর উপজেলার বাজারে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে তালা ভেঙে প্রিয়াংকা জুয়েলার্স নামের একটি স্বর্ণের দোকানে ঢুকে লুটপাট শুরু করে। এ সময় পাশের দোকানে থাকা মিলন মোল্লা নামে এক রাজমিস্ত্রি ঘটনাটি টের পেয়ে বাধা দিতে এগিয়ে গেলে ডাকাতরা তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে ডাকাতদল বাজারের আরও ৫টি স্বর্ণের দোকানে একের পর এক লুট চালায়। পাশাপাশি দুটি দোকানের স্বর্ণের সিন্দুকও তুলে নিয়ে যায় তারা। ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় পাশের একটি মুদি দোকান এবং একটি কসমেটিকস দোকানেও লুটপাট চালায়। এতে বাজারে এক রাতেই কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। ঘটনার পর পুরো বাজারজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী
সদিপ মণ্ডল বলেন, আমার জীবনের সবটুকু সহায়-সম্বল দিয়ে এই দোকান পরিচালনা করছি। আমার দোকানে অন্য মানুষের স্বর্ণ অলংকার বন্ধক রাখা ছিল। এখন তাদের মালামাল কীভাবে ফেরত দেবো? আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম, পথে বসে গেলাম। বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরাও জানান, একসঙ্গে এতগুলো দোকানে ডাকাতির ঘটনায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এবিষয়ে মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ডাকাতরা প্রায় ৫০ ভরি স্বর্ণ, ১০০০ ভরি রুপা এবং নগদ কয়েক লাখ টাকা লুট করেছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এমন বড় ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে পারে।





