অগ্নিকাণ্ডে ভ্যানচালকের একমাত্র বসতঘর পুড়ে ছাই, খোলা আকাশের নিচে পাঁচ সদস্যের পরিবার
জিহাদ হাসান
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জাজিরার ইউনিয়নের জব্বার আলী আকন কান্দি এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভ্যানচালক শুক্কুর আকনের একমাত্র বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে গেছে ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পরিবারের বহু বছরের সঞ্চয়। এতে তিন সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন অসহায় এই পরিবার।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে উপজেলার জাজিরা ইউনিয়নের জব্বার আলী আকন কান্দি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন শুক্কুর আকন। এ সময় হঠাৎ তার বসতঘরে আগুন লাগে।
প্রতিবেশীরা ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পেয়ে দ্রুত ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। কিন্তু দাহ্য উপকরণে তৈরি ঘর হওয়ায় আগুন দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে নিজের ঘর পুড়তে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন শুক্কুর আকন। চোখের সামনে বহু কষ্টে গড়ে তোলা একমাত্র আশ্রয়টুকু আগুনে ধ্বংস হতে দেখে তিনি বারবার আহাজারি করতে থাকেন।
শুক্কুর আকন পেশায় একজন ভ্যানচালক। দিন এনে দিন খাওয়া এই মানুষটি দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত আয় দিয়ে ছোট্ট একটি বসতঘর নির্মাণ করেছিলেন। সেই ঘরেই স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। তার দুই মেয়ে স্থানীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে এবং ছোট ছেলে এখনও বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শুক্কুর আকন বলেন,
“আমার সব শেষ হয়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে ঘরটা বানিয়েছিলাম। এখন মাথা গোঁজার কোনো জায়গা নেই। তিনটা সন্তান নিয়ে কোথায় থাকবো, কীভাবে থাকবো জানি না। আল্লাহ ছাড়া আমার আর কেউ নেই। মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এই অবস্থায় ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব না।”
প্রতিবেশী রাসেল আকন বলেন, “শুক্কুর খুবই গরিব মানুষ। ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়েই সংসার চলে। তার একমাত্র বসতঘরটি আজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।”
অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জাজিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, “সকালে ঘটনাটি জানতে পেরে আমি তার বাড়িতে গিয়েছি। শুক্কুর আকন অত্যন্ত অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষ। তার একমাত্র বসতঘরটি পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়েছে। আমার ব্যক্তিগত ও পরিষদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো। পাশাপাশি সরকারি সহায়তার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবান মানুষদের এগিয়ে আসা জরুরি। কারণ এক নিমিষেই মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে ভ্যানচালক শুক্কুর আকনের পরিবার।





