অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেলের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ
ওয়াসিম সেখ,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেলকে ঘিরে নতুন করে নানা আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আদালতপাড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার অতীত কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক পরিচয় এবং সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পরও তিনি বিভিন্ন মামলার আসামিপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন এবং আদালত এলাকায় নিজ কক্ষে বসে মামলা সংশ্লিষ্ট লেনদেনে জড়িত রয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) আদালত চত্বরে তাকে কয়েকজন আসামির সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন আইনজীবী ও আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। ৫ই আগস্ট সরকার পতন হলে হুমায়ূন কবির কর্নেলকে আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে ঢাকার পল্টন থানায় ১৬ নম্বর মামলায় ৫৪ নম্বর আসামি করা হয়েছিল। একই মামলায় প্রধান আসামি ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এছাড়া একটি এজলাসে আসামিপক্ষের হয়ে দাঁড়ানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আদালতে দাঁড়িয়েছিলাম, তবে কোনো পক্ষের হয়ে বক্তব্য দেইনি। সকাল থেকে নিজ অফিস কক্ষে আসামের পক্ষ হয়ে দেন দরবারের প্রশ্ন করলে তিনি সৎ উত্তর দিতে পারেননি।
এদিকে হুমায়ুন কবির কর্নেলের অতীত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এর আগে তার বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগে মামলা হয়েছিল এবং তিনি গ্রেফতারও হয়েছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের মে মাসে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে চৌহালী থানা পুলিশ। সে সময় তার বিরুদ্ধে ৩টি সাজা পরোয়ানা ও ২টি জিআর মামলাসহ মোট ৫টি গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল বলে জানিয়েছিল পুলিশ। অভিযোগ ছিল, চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ, মামলায় জামিন ও অব্যাহতির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তিনি। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিয়ারা ঘাট এলাকার এটেমটু মার্ডার মামলার প্রধান আসামী পুলিশ কনস্টেবল রুবেলের পক্ষ নিয়ে দেন দরবার করেন।
চৌহালীর চরাঞ্চলের অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছিলেন, সহজ-সরল মানুষকে সরকারি চাকরি, সেনাবাহিনীতে নিয়োগ কিংবা মামলা নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
তবে হুমায়ুন কবির কর্নেলের ঘনিষ্ঠজনেরা দাবি করছেন, অতীতের মামলাগুলোর বেশিরভাগই রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো নিয়ে আদালতপাড়া ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই।





