তিন হত্যা মামলার আসামি জুবায়ের মণ্ডলের দ্রুত জামিন নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তে অব্যাহতি নিয়েও বিতর্ক
ওয়াসিম সেখ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তাঁতশ্রমিক ইয়াহিয়া আলী (৩৫) ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন (২২) হত্যা মামলায় নাম থাকা আসামিদের মধ্যে জুবায়ের মণ্ডলের দ্রুত জামিন এবং পরবর্তীতে কয়েকজন আসামিকে তদন্তে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট ২০২৪ সালে নিহত ইয়াহিয়া আলীর স্ত্রী শাহানা খাতুন বাদী হয়ে এনায়েতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মণ্ডল, তার ভাই আব্দুল আলিম মণ্ডল, জুবায়ের মণ্ডল ও মো. লুৎফর রহমানসহ ৮৭ জনকে আসামি করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৭০০ জনকে আসামি করা হয়।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় এনায়েতপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হযরত আলী বাদী হয়ে পৃথক একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায়ও সাবেক এমপি আব্দুল মমিন, তার ভাই আব্দুল আলিম মণ্ডল, জুবায়ের মণ্ডল ও মো. লুৎফর রহমানসহ ৮৯ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলাতেও ৫০০ থেকে ৭০০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বেলকুচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, চৌহালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তাজ উদ্দিন, বেলকুচি পৌরসভার মেয়র সাজ্জাদুল হক, এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহমদ মোস্তফা খান, সাধারণ সম্পাদক আজগার আলী, সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম ও যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে এনায়েতপুরের আল-হেরা মার্কেট ও ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল, লোহার রড, ইট-পাটকেল ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়, আব্দুল আলিম মণ্ডলের নির্দেশে মো. লুৎফর রহমান গুলি চালালে সিয়াম হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, গত ১ জুন ২০২৬ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এলাকা থেকে মামলার অন্যতম আসামি জুবায়ের মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মাত্র তিন দিনের মাথায় ৪ জুন তিনি জামিনে মুক্তি পান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একাধিক হত্যা মামলার আসামি হয়েও কীভাবে এত দ্রুত জামিন লাভ সম্ভব হলো।
অন্যদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মাসুদুর রহমান ও এসআই এস.এম. রিয়াজু রহমান গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দাখিল করা অন্তর্ভুক্তি তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আব্দুল আলিম মণ্ডল, জুবায়ের মণ্ডল ও মো. লুৎফর রহমানকে মামলার বাদীরা ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। এ কারণে তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয় এবং পরবর্তীতে তারা অব্যাহতি পান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বাদীপক্ষের দাবি, তদন্তের সময় তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত তথ্য যাচাই ছাড়াই প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। বাদীদের ভাষ্য, যদি আমরা আসামিদের না-ই চিনতাম, তাহলে তাদের নাম মামলার এজাহারে উল্লেখ করতাম না।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।
ঘটনাটির বিভিন্ন দিক এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আরও তথ্য অনুসন্ধান চলছে।





