সারাদেশ

‎মামলা চলমান, তবুও থামেনি হুমকি, জামিনে মুক্ত আসামিদের ভয়ে আতঙ্কে বৃদ্ধ বাদী, নিরাপত্তা চায় পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
‎চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধ ব্যক্তির ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকলেও অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকি, ভয়ভীতি ও মামলা তুলে নেওয়ার চাপের কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী হাজী মোহাম্মদ জাফর উল্ল্যাহ (৭৪)। মামলা সূত্রে জানা যায়, সন্দ্বীপ থানার এফআইআর নং-২, তারিখ ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ এবং জিআর নং-৭৭ এর মাধ্যমে মোঃ মিজান, মোঃ করিম ও মোঃ রাহাতের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে একাধিক তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে পেনাল কোডের ৪৪৭/৩২৩/৩০৭/৫০৬ ধারার অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন।
‎এজাহার ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকেই অভিযুক্তরা বাদীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হামলার হুমকি দিয়ে আসছিল।
‎এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সারিকাইত ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বাদীর বসতঘরের সামনে তাকে গালিগালাজ করতে শুরু করে অভিযুক্তরা। বাদী প্রতিবাদ করলে তারা লাঠিসোটা নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান আসামি মোঃ মিজান লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে বৃদ্ধ জাফর উল্ল্যাহকে রক্তাক্ত জখম করেন। অপর আসামিরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করে। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে বাদীর স্ত্রী সুফিয়া বেগমও হামলার শিকার হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে গাছুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তবে ঘটনার পর মামলা দায়ের হলেও অভিযুক্তরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন লাভ করে এবং বর্তমানে জামিনে রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলা রুজুর পর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত আসামিরা আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে জামিনে মুক্ত থেকে আরও বেপরোয়া ও দুঃসাহসী হয়ে উঠেছে। গ্রেপ্তার বা আইনের কঠোরতার মুখোমুখি না হওয়ায় তারা প্রকাশ্যে ও গোপনে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বৃদ্ধ বাদীকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছে।
‎বাদীপক্ষের দাবি, স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রভাবশালীদের মাধ্যমে বারবার আপস-মীমাংসার নামে মামলা প্রত্যাহারের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মানসিক হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। ফলে বৃদ্ধ বাদী ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ৩ জুন রাত আনুমানিক ১২টার দিকে একই এলাকার মোঃ এমলাক (৪৫) নামে এক ব্যক্তি লাঠি হাতে বাদীর বাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি বাদীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি নিয়ে তেড়ে আসেন, ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় পরদিন ভুক্তভোগী সন্দ্বীপ থানায় নিরাপত্তাজনিত কারণে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও বাদীপক্ষের দাবি, এরপরও হুমকি-ধমকি বন্ধ হয়নি; বরং অভিযুক্তদের আচরণ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।
‎বৃদ্ধ বাদী হাজী মোহাম্মদ জাফর উল্ল্যাহ বলেন, আমি একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ। আদালতের ওপর আস্থা রেখে মামলা করেছি। কিন্তু আসামিরা জামিনে বাইরে থেকে প্রতিনিয়ত আমাকে ও আমার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা এখন ঘর থেকে বের হতেও আতঙ্ক বোধ করি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিচারাধীন মামলার আসামিরা অবাধে ঘোরাফেরা করায় সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ভুক্তভোগী পরিবার অবিলম্বে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিচারাধীন মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, মামলার আসামিরা জামিনে থেকে যেভাবে ধারাবাহিকভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে, তাতে যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
‎স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিচারাধীন মামলার বাদী যদি দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে থাকেন, তবে তা বিচারপ্রক্রিয়া ও আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,