নওগাঁয় ব্যবসায়ী হত্যায় পুলিশের দ্রুত অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় দুই আসামি গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার নওগাঁঃ
নওগাঁ সদর থানাধীন বারোমাসি বিলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ একটি ফোন কলের মাধ্যমে জানতে পারেন, বারোমাসি বিলে কচুরিপানার নিচে একটি লাশ ভাসছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করে এবং নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত শফিকুল ইসলাম (বাড়ি: তিলকপুর, থানা আক্কেলপুর, বগুড়া) পেশায় পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন।
তদন্তে জানা যায়, গত ৯ জুন সদর থানায় শফিকুল ইসলাম নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছিল। ব্যবসায়িক কাজে বের হওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এরপর থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, গোপন সূত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নওগাঁ শহর থেকে জয়নুল এবং মান্দা এলাকা থেকে আশরাফুলকে গ্রেফতার করা হয়। জয়নুলের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা এবং তাদের এক পলাতক সহযোগী পূর্বপরিকল্পিতভাবে শফিকুল ইসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তারা সবাই ব্যবসায়িকভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। গত ৮ জুন ভীমপুর কলেজ মোড়ে একত্রিত হয়ে তারা বারোমাসি বিলের পাথরঘাটি ব্রিজ এলাকায় যায়।
সেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী শফিকুলের গলায় নাইলনের রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করা হয় এবং তাকে চেপে ধরে রাখা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রেখে তারা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর আসামিরা নিহতের মোটরসাইকেল ও নগদ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। মূলত সামান্য অর্থ ও মোটরসাইকেলের লোভেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন। নিহতের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, যেকোনো অপরাধ দমন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা সর্বদা তৎপর রয়েছে।





