মোরেলগঞ্জে অফিসে ঢুকে চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের বলভদ্রপুর বাজার সংলগ্ন সিএন্ডবি রাস্তার পাশে মহিষপুরা টু খুলনা আন্তঃ জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির অফিসে ঢুকে চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনায় মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ সাইদুল ইসলাম শেখ (৪৯)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এলাকার কিছু চিহ্নিত মাস্তান, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মোরেলগঞ্জ থানাধীন বনগ্রাম ইউনিয়নের বলভদ্রপুর বাজার সংলগ্ন সিএন্ডবি রাস্তার পাশে মহিষপুরা টু খুলনা আন্তঃ জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির অফিসে (যাহার গভ রেজিঃ নং-খুলনা-৭৭৮) ঢুকে অফিস সহকারি মোঃ সাইদুল ইসলাম শেখ ও কোষাদক্ষ্য স্বপন কুমার দাসের কাছে বিবাদীগন দীর্ঘদিন ধরে ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তারা চাঁদার টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় বিবাদীগন তাদের প্রতি ভীষণভাবে ক্ষিপ্ত হয় এবং বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও জীবন নাশের ঘুমকি প্রদর্শন করে। এর জের ধরে বিবাদীরা হিংস্র ও সন্ত্রাসী মনোভাব শোষণ পূর্বক আমাদের মারপিট, খুন ও জখম’সহ উক্ত অফিস বন্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়।
ঘটনার দিন গত ১৫ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬:৩০ ঘটিকার সময় বিবাদীগন’সহ দেশিও অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে পুনরায় উক্ত অফিসে এসে তাদের নিকট বর্ণিত চাঁদার টাকা চাইলে এসময় তারা টাকা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করলে সকল বিবাদীগন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের হাতে থাকা লোহার রড, হাতুড়ি, লোহার শাবল ও ভারীলাঠি দ্বারা অফিসের চেয়ার-টেবিল, ১টি টিভি’সহ অন্যান্য মালামাল ভাংচুর করে। যার আনুমানিক মূল্য ১,৫০,০০০/-(একলক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা। এ সময় অফিস সহকারি মোঃ সাইদুল ইসলাম শেখ ও কোষাদক্ষ্য স্বপন কুমার দাস বিবাদীদের কাজে বাধা দিলে সকল বিবাদীগন তাদের অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ’সহ প্রকাশ্যে জীবন নাশের ভয়তীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। এসময় কোষাদক্ষ্য স্বপন কুমার দাস বিবাদীগনকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে সকল বিবাদীগন কোষাদক্ষ্য স্বপন কুমার দাস ও অফিস সহকারি মোঃ সাইদুল ইসলাম শেখকে এলোপাথাড়ীভাবে পিটিয়ে ও কিল-ঘুধি মেরে তার মাথার উপরে, মুখো মন্ডলে, বুকে, পিঠে, উভয় হাতে বাহুতে, উরুতে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। মারপিটের একপর্যায় স্বপন কুমার দাস মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এসময় তার প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ ১৮,০০০/- (আঠারে হাজার) টাকা ও তার ব্যবহৃত ১টি স্মার্ট ফোন, (যার মূল্য ৩৩,০০০/-টাকা), ১টি বাটিন ফোন, (যার মূল্য ৩,০০০/-টাকা) ও অফিসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যেমনঃ-১। নোটিশ বই, ২। রেজুলেশন খাতা, ৩। গঠনতন্ত্র, ৪। সার্টিফিকেট, ৫। ক্যাশ বই, ৬। বিল ভাউচার রশিদ বই, ৭। সদস্য রেজিস্ট্রার’সহ আরও মূল্যবান কাগজপত্র বিবাদীরা চুরি করে নিয়ে যায়।
এরপর তাদের ডাকচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং সকল বিবদীগনকে জোর বাধা দিয়ে অফিস সহকারি মোঃ সাইদুল ইসলাম শেখ ও কোষাদক্ষ্য স্বপন কুমার দাসকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে অফিস সহকারি মোঃ সাইদুল ইসলাম শেখ পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং কোষাদক্ষ্য স্বপন কুমার দাসকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে স্বপন কুমার দাস উক্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ মামলার বিবাদীরা হলেন– মৃত আবুল হোসেন খানের পুত্র খান শহিদুজ্জামান মিল্টন (৪৮), মৃত আরোজ আলী খানের পুত্র মোঃ মিজানুর রহমান মিজান (৩২), মৃত মোস্ত মোল্লা’র পুত্র মোঃ আসাদ মোল্লা (৪০), মোঃ দেলোয়ার শেখের পুত্র মামুন শেখ (৩০), জীবনানন্দ দাসের পুত্র প্রসনজিৎ দাস (৩২) ও মোঃ পগলা শেখের পুত্র মোঃ জাহিদ (৩৮) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮জন।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, আমরা এবিষয়ে একটি এজাহার পেয়েছি। তদন্তপূর্ব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




