রাবিপ্রবিতে প্রকল্প পরিচালকের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবিতে আমরণ অনশন
রাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা, আবাসিক ও পরিবহন সংকট নিরসনসহ পাঁচ দফা দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। প্রকল্প পরিচালক আব্দুল গফুরের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১-এর সামনে অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ‘ঘৃণা মঞ্চ’ উদ্বোধন এবং প্রতীকী স্মারক প্রদান করেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা, আবাসিক সংকটের দ্রুত সমাধান, পরিবহন সংকট মোকাবিলায় চালক নিয়োগ, পূর্ববর্তী উপাচার্যের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকল্প পরিচালক আব্দুল গফুরের পদত্যাগ।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রকল্প পরিচালক হিসেবে আব্দুল গফুরের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসংগতি রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন তারা।
অনশনরত রাবিপ্রবি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী বাদশা সুলেমান জানান, “প্রকল্প পরিচালক একজন আওয়ামী পন্থী এবং তার নিয়োগে অনিয়ম রয়েছে, তিনি শিক্ষা জীবনে তৃতীয় বিভাগ পেয়েও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান প্রকল্পে তিনি যে দুর্নীতি ও হরিলুট করেছেন তার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ যথাসময়ে শেষ হয়নি।”
কম্পিউটার সাইন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুনতাসিরুল আলম জানান, “গত ২৮ জুলাই আমরা দুই দফা দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম , প্রথম দাবি ছিল প্রকল্প পরিচালক আব্দুল গফুরের দুর্নীতি বিষয়ে তদন্ত এবং তদন্ত চলাকালীন সময়ে তার বহিষ্কারাদেশ জারি থাকা, দ্বিতীয় দাবি ছিল সাবেক ভিসি আতিয়ার রহমান স্যারের আমলের নিয়োগ যেহেতু প্রশ্নবিদ্ধ ছিল তাই তারও সুষ্ঠু তদন্ত করা। আজ ১০ আগস্ট প্রায় ১৩ দিন হয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না পাওয়ায় আজ আমরা এ কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে।”
অনশন কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, উপ-উপাচার্য ও উপাচার্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শোনেন এবং সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।
তবে প্রশাসনের আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচি চলাকালে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম জানান, পিডি নিয়োগ/বাতিল সংক্রান্ত বিষয়টি সম্পূর্ণ মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত, এক্ষেত্রে আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই৷ আমরা শিক্ষার্থীদের থেকে ১৫-২০ দিন সময় চেয়েছি এবং মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি। আশাকরি দ্রুত এবিষয়ে সমাধান আসবে।
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশনসহ চলমান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।





