সিরাজগঞ্জে বিদ্যুতের খুঁটিতে ‘সরকার নেটের’ রাউটার, অনুমোদন ছাড়াই বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ
ওয়াসিম সেখ,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ব্যবহার করে অনুমোদন ও পৃথক মিটার ছাড়াই ইন্টারনেটের রাউটার ও হটস্পট ডিভাইস পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে ‘সরকার নেট’ নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের মূল লাইন থেকে সরাসরি সংযোগ নিয়ে এসব ডিভাইস চালানো হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সায়দাবাদ ইউনিয়ন, কামারখন্দ ও বেলকুচি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, বাজার ও জনবহুল এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে বিপুলসংখ্যক ওয়াই-ফাই রাউটার ও হটস্পট ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সূত্রগুলোর দাবি, তিন উপজেলায় প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার রাউটার ও হটস্পট চালু রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ডিভাইস স্থাপনের ক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন কিংবা কোনো ধরনের বৈধ চুক্তি নেওয়া হয়নি। কোথাও কোথাও বিদ্যুতের মেইন লাইন থেকে ‘হুকিং’ করে সংযোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দেওয়া আনুমানিক হিসাবে, একটি রাউটার ২৪ ঘণ্টা চালু থাকলে দিনে গড়ে প্রায় এক টাকার মতো বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। সে হিসাবে ১ হাজার ৫০০ রাউটারে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা, মাসে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা এবং বছরে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দাঁড়ায়। তবে ডিভাইসের ক্ষমতা, ধরন ও ব্যবহারের সময়ের ওপর প্রকৃত বিদ্যুৎ খরচ কমবেশি হতে পারে।
এদিকে, পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে অনুমোদনহীনভাবে ইন্টারনেটের তার, রাউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম স্থাপনের কারণে শুধু রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কাই নয়, নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো স্থানে বিদ্যুতের মূল তারের খুব কাছাকাছি এসব ডিভাইস ও ইন্টারনেটের তার ঝুলছে। এতে দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের কাজের সময় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার হারুন-অর-রশীদ বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তাই না জেনে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না বলে জানান তিনি।
তবে কামারখন্দ সাব-জোনাল অফিসের এজিএম (ওএন্ডএম) জানান, বিদ্যুতের খুঁটিতে স্থাপিত রাউটার বা এ ধরনের ডিভাইস পরিচালনার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এসব ডিভাইসের বিপরীতে কোনো বিদ্যুৎ বিলও নেওয়া হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ‘সরকার নেট’-এর স্বত্বাধিকারী নূরনবী শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তাদের স্থাপিত রাউটারগুলোর বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করা হয়।
তবে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তার এ দাবির সঙ্গে একমত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, খুঁটিতে স্থাপিত এসব রাউটার বা ডিভাইসের জন্য কোনো অনুমোদন নেই এবং এগুলোর বিপরীতে কোনো বিদ্যুৎ বিলও নেওয়া হচ্ছে না।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-এর ১৫৪ ধারায় বিদ্যুৎ চুরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। আইন অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এদিকে, গরমের তীব্রতার মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট ও লোডশেডিংয়ে জনভোগান্তি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনুমোদন ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং মেইন লাইন থেকে সংযোগ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
তাদের দাবি, পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে স্থাপিত এসব রাউটার ও অন্যান্য ডিভাইসের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। তদন্তে অবৈধ সংযোগের প্রমাণ মিললে তা দ্রুত বিচ্ছিন্ন করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।



