সারাদেশ

৪৩ ঘণ্টা পর সিএনজি পাম্পে গ্যাস, স্বস্তির সঙ্গে আধা কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন

ওয়াসিম সেখ,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
দীর্ঘ ৪৩ ঘণ্টার অপেক্ষার অবসান। অবশেষে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে সিরাজগঞ্জ শহরের একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশনে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের দিয়ার বৈদ্যনাথ এলাকার এ্যালবাট্রস এনার্জী সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ফের গ্যাস দেওয়া শুরু হয়। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর স্বস্তি ফিরেছে সিএনজি চালকদের মাঝে।
তবে গ্যাস আসার খবর যেন মুহূর্তেই বদলে দেয় সড়কের চিত্র। সকাল থেকেই গ্যাস নিতে স্টেশনটিতে ছুটে আসেন শত শত সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চালক। একপর্যায়ে স্টেশনের দুই পাশে রাস্তার ধারে প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে তৈরি হয় দীর্ঘ যানবাহনের সারি। একদিকে সেই লাইন গিয়ে ঠেকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজের গেটে, অন্যদিকে পৌঁছে যায় ব্র্যাকের আঞ্চলিক কার্যালয় পর্যন্ত।
এর আগে বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে গ্যাসের লাইনে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ্যালবাট্রস এনার্জী সিএনজি ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল চালকদের জন্য এরপর শুরু হয় দুর্ভোগ। দীর্ঘ ৪৩ ঘণ্টা পর শুক্রবার ভোরে গ্যাসের লাইন সচল হলে সকাল ৬টা থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে গ্যাসের লাইনে সাময়িক ওঠানামা দেখা দিলেও কিছুক্ষণ পর তা আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। পরে স্বাভাবিক চাপেই সিএনজি সরবরাহ অব্যাহত থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্যাস নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সারিতে চালকদের অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে, আবার কেউ গাড়িতে বসেই অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গ্যাস পাওয়ার আনন্দও ছিল তাদের চোখেমুখে।
এ্যালবাট্রস এনার্জী সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কিরণ জানান, দীর্ঘ ৪৩ ঘণ্টা পর গ্যাসের লাইন সচল হয়েছে। বর্তমানে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে সিএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্টেশনের লজেন ম্যান পলাশ ও উদয় সূত্রধর বলেন, এখন গ্যাসের চাপ ঠিক আছে। আমরা সিএনজিতে গ্যাস দিচ্ছি।
তিন দিন পর গ্যাস পেয়ে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন চালক সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, তিন দিন পর গ্যাস পেলাম, খুব ভালো লাগছে। এই তিন দিন কোনো কামাই করতে পারিনি। আমরা সিএনজি চালিয়েই সংসার চালাই। এটাই আমাদের একমাত্র উপার্জনের পথ। গাড়ি চালিয়ে যে টাকা আয় করি, সেই টাকা দিয়েই পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করি। গ্যাস না থাকলে আমাদের আয়ও বন্ধ হয়ে যায়।
আরেক সিএনজি চালক রিপন বলেন, গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে এলপি গ্যাস দিয়ে গাড়ি চালাতে হয়েছে। এতে গাড়ি চালানোর খরচ অনেক বেড়ে যায়। যাত্রীদের কাছ থেকেও কিছুটা বেশি ভাড়া নিতে হয়েছে। এলপি গ্যাসের দাম লিটারে ৭৩ টাকা, আর সিএনজি গ্যাসের দাম লিটারে ৪৩ টাকা। এখন যেহেতু সিএনজি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তাই বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।
চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিএনজি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় শুধু তাদের আয়-রোজগারই ব্যাহত হয়নি, বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপও পড়েছে। কেউ কেউ এলপি গ্যাস ব্যবহার করে গাড়ি চালিয়েছেন, আবার অনেকে তিন দিন গাড়ি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, সিরাজগঞ্জ শহরের একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশন হওয়ায় এই স্টেশনটির ওপর বিপুলসংখ্যক সিএনজি চালক নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলে সরাসরি এর প্রভাব পড়ে চালক, যাত্রী ও পরিবহন ব্যবস্থায়।
দীর্ঘ ৪৩ ঘণ্টা পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় আপাতত স্বস্তি ফিরলেও চালকদের দাবি, ভবিষ্যতে যেন হঠাৎ করে দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ না হয়। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন চালকদের আয়-রোজগার স্বাভাবিক থাকবে, অন্যদিকে যাত্রীদেরও বাড়তি ভাড়ার চাপ থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,