লালমনিরহাট সংবাদ প্রকাশের পরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত ছাড়াই নথিভুক্তের অভিযোগ।
লুৎফর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিদ্যুতের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের জের ধরে নিউজ২৪ টেলিভিশনের লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি রবিউল হাসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে বড়খাতা নেসকো বিভাগের প্রকৌশলী রেজওয়ান হোসেনের বিরুদ্ধে। এ মামলায় সাংবাদিক রবিউলকে মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মামলাটি দায়েরের পর কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই তা নথিভুক্ত করে আদালতে পাঠায় হাতীবান্ধা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রোববার দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিন আসামি শনাক্তের জন্য এলাকায় গেলে সাংবাদিক রবিউলের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
জানা গেছে, তিন দিন ধরে ঐএলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় গত ১৭ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া জোড়াপুকুর এলাকায় বিদ্যুতের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে নিউজ২৪-এর জেলা প্রতিনিধি রবিউল হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন এবং বিক্ষোভের ভিডিও ধারণ ও সংবাদ সংগ্রহ করেন। এ সময় তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের গাড়ির চালক ও বড়খাতা নেসকো বিভাগের প্রকৌশলী রেজওয়ান হোসেনের বক্তব্যও ধারণ করেন বলে জানান তিনি।
ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর, গত ১৩ জুন বড়খাতা নেসকো বিভাগের প্রকৌশলী রেজওয়ান হোসেন বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় মামলা করেন। মামলায় রবিউল হাসানসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে বিদ্যুৎকর্মীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক, গালিগালাজ, সরকারি কাজে বাধা, গাড়ি অবরুদ্ধ করা, মারধর, টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টাসহ গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাংবাদিক রবিউল হাসান। তাঁর দাবি, তিনি কেবল সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।
সাংবাদিক রবিউল হাসান হাসান বলেন, “ফকিরপাড়া জোড়াপুকুরে বিদ্যুতের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করি। বিদ্যুৎ বিভাগের গাড়ির চালক ও বড়খাতা প্রকৌশলী রেজওয়ান হোসেনের বক্তব্য ধারণ করি। কিন্তু অদৃশ্য কারণে আমার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
এবিষয়ে বড়খাতা নেসকোর প্রকৌশলী রেজওয়ান হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “ব্যাপারটা সাংবাদিকের সঙ্গে নয়। উনি আসলে উসকানি দিয়ে করিয়েছেন। পুরো ঘটনা আমার জানা নেই। সংবাদ সংগ্রহ করা তাঁর মুখ্য বিষয় ছিল না- উনি উসকানি দিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। এ কারণে আমরা বিচার প্রত্যাশা করি।”
তবে সাংবাদিক রবিউলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে মামলার আগে বা পরে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত হয়েছিল কি না, তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।
এ বিষয়ে তৎকালীন হাতীবান্ধা থানার ওসি এবং বর্তমানে জেলা ডিএসবি কার্যালয়ে কর্মরত রমজান আলীর কাছে তদন্ত ছাড়া মামলা নথিভুক্ত করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এজাহারে সংবাদকর্মী লেখা নাই। উনি জড়িত আছেন কি না, সেটা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।”
একজন পেশাদার সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কোনো ঘটনার আসামি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে- সংবাদ সংগ্রহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ আনার আগে কি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়েছিল? নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মামলা ও হয়রানির অভিযোগ যাতে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।





