কালীগঞ্জে গাছ কাটে জমি দখলের চেষ্টা, থানায় প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
মারুফ হাসান (কালীগঞ্জ) গাজীপুর:
গাজীপুরের কালীগঞ্জে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে গাছ কাটার চেষ্টা, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. সাফিকুল ইসলাম (৫৬) নামে এক ব্যক্তি কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে সাফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে স্ত্রী আজিজুন নাহার লালজীর বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। পাশাপাশি তার শ্বশুর মৃত আবুল হোসেন মোল্লার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও তার কন্যা সন্তানদের জমি দেখাশোনা করে আসছেন।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হানিফা শেখ (৫২), পিতা—মৃত নেওয়াজ আলী, সাং—মোস্তারপুর, থানা—কালীগঞ্জ, জেলা—গাজীপুরসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে সাফিকুল ইসলামের স্ত্রীর পৈতৃক ওয়ারিশি জমি থেকে জোরপূর্বক ২২ থেকে ২৪টি কাঠগাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
অভিযোগকারীর দাবি, গাছগুলো কেটে নেওয়া সম্ভব হলে তার শ্বশুরের পৈতৃক সম্পত্তিতে থাকা গাছপালার আনুমানিক ২ লাখ ১০ হাজার টাকার মতো আর্থিক ক্ষতি হতো।
এ সময় অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি অভিযুক্তদের অন্যায় কাজে বাধা দিলে মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন সাফিকুল ইসলাম।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের আচরণে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলেও অভিযুক্তদের বিষয়ে তারা থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।
পরে স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সাফিকুল ইসলাম কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের মাধ্যমে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অন্যায়-অত্যাচার, নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমরা জেনে এসেছি এই জমিটি শফিকুল ইসলামের । কিন্তু হঠাৎ করেই গত কয়েকদিন আগে হানিফা এসে জমি নিজের নামে দাবি করে । এবং গাছ কেটে নেওয়ার চেষ্টা করে ।
সফিকুল ইসলামের ছেলে ডাক্তার আশফাক আহমেদ বলেন আমি এ বিষয়ে বলতে চাই এভাবে গাছে কেটে নেওয়ার কোন যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না । যদি তাদের বৈধ কাগজপত্র থাকে তাহলে আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে । কিন্তু জোর জবরদস্তি করে এভাবে গাছ কেটে নেওয়া অন্যকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার কোন মানেই হয় না । আমি এর ক্ষতিপূরণ চাই একই সাথে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর সঠিক সমাধান চাই ।
এদিকে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত হানিফা মুন্সির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া যায়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করছেন অভিযোগকারী।





