‘ইউএনও-এসিল্যান্ডকে দিতে হবে’— কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতার চাঁদাবাজি!
ঢাকার কেরানীগঞ্জে সরকারি খাল খনন কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নাম ব্যবহার করে ভাগনা হিজলতলা এলাকার খালের দু’পাশের দোকান মালিকদের কাছ থেকে এ অর্থ আদায় করা হয়।
অভিযুক্তরা হলেন—কালিন্দী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন ঢালী, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ এবং স্থানীয় যুবদল নেতা সবুজ।
ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি উদ্যোগে দিঘীরপাড় খাল খননের কাজ শুরু হলে সীমানার ওপর থাকা দোকান উচ্ছেদের আতঙ্ক তৈরি হয়। এই ভীতিকে কাজে লাগিয়ে চক্রটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা দাবি করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমাদের বলা হয়—ইউএনও ও এসিল্যান্ডকে দিতে ১৫ লাখ টাকা লাগবে। এই টাকা না দিলে তিন দিনের মধ্যে দোকান ভেঙে দেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে।” আরও জানা যায়, সম্প্রতি খালের ময়লা পরিষ্কারের দোহাই দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গোপনে ৫০ হাজার টাকা আদায় করেন লিটন ঢালী। কিন্তু কাজ সরকারি খরচে হচ্ছে জেনে এবং স্থানীয়ভাবে তোলপাড় শুরু হলে পরে তিনি সেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। আরেক ব্যবসায়ীর কাছে ৯০ হাজার টাকা নেয়ার ঘটনায় মুঠোফোনে যুবদল নেতা সবুজ টাকা নেওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করে জানান, “আমি স্থানীয় এক শীর্ষ নেতার নির্দেশে টাকা তুলেছিলাম। পরে তা ফেরতও দিয়েছি।” তবে নিজের সুরক্ষার দোহাই দিয়ে সেই মূল নেতার নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করলেও অপরাধীদের পার পাওয়ার সুযোগ নেই। লিটন ঢালীর বড় ভাই মিলন ঢালী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এলাকা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, আর এখন ছোট ভাই বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে সেই অপকর্ম করছেন ভাংগনাতে।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুক ঢাকা-২ আসনের এমপি আমান উল্লাহ আমানের সাথে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। অপরাধ প্রমানিত হলে কঠোর শাস্তির বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।





