৮ বছরেও শেষ হয়নি শিক্ষক রুবিনা হত্যা মামলার বিচার, হতাশ স্বজনরা
শরীয়তপুরের জাজিরায় স্কুলশিক্ষক রুবিনা আক্তার হত্যাকাণ্ডের আট বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। ২০১৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়ির পেছনের বাঁশবাগান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় পুলিশ। তবে অভিযোগপত্র নিয়ে আইনি জটিলতায় আটকে আছে মামলার কার্যক্রম। দীর্ঘ আট বছরেও বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয় সংগঠনের নেতারা।
নিহত রুবিনা আক্তার (৩৪) জাজিরা উপজেলার পশ্চিম রায়ের কান্দি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি উপজেলার বড় মুলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র ফটোকপি করার জন্য জাজিরা উপজেলা সদরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন রুবিনা আক্তার। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর তাঁর ভাই শামসুল হক মুন্সি জাজিরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাড়ির পাশের একটি বাঁশবাগানে বাঁশের সঙ্গে ওড়না দিয়ে বাঁধা অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই শামসুল হক মুন্সি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে জাজিরা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন জাজিরা উপজেলা যুবলীগ নেতা ও নিহতের ভগ্নিপতি কামাল মাদবর ওরফে তমি কামালসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। কিছুদিন পর তাঁরা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
২০১৯ সালের মার্চে মামলার তদন্ত শেষে কামাল মাদবর ওরফে তমি কামালসহ পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন মেহেদী হাসান, মো. রাসেল মাদবর, সজিব হোসেন মাদবর ও রাকিব শাহ।
পুলিশের দেওয়া ওই অভিযোগপত্র সঠিক নয় দাবি করে হাইকোর্টে রিট করেন মামলার প্রধান আসামি কামাল মাদবর ওরফে তমি কামাল। গত বছরের ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট ওই রিট খারিজ করে দেন।
নিহত শিক্ষক রুবিনা আক্তারের ভাই ও মামলার বাদী শামসুল হক মুন্সি বলেন, “আমার বোনের খুনিদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি আইনের লড়াই চালিয়ে যাব। বোনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী ফায়জুর রহমান মনির বলেন, “বিবাদীপক্ষ পুলিশের দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেছিল। সেই রিট গত বছরের আগস্টে খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। পরে শরীয়তপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতকে দুই মাসের মধ্যে মামলায় পুলিশের দেওয়া আগের চার্জশিট বহাল রাখা কিংবা পুনঃতদন্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের ওই নির্দেশ স্থগিত চেয়ে আবারও আবেদন করেন মামলার প্রধান আসামি কামাল মাদবর। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে চলমান রয়েছে।
পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত পাঁচ আসামির মধ্যে দুজন জামিনে এবং বাকি তিনজন পলাতক রয়েছেন।





