সদরপুরে দেদারছে চলছে নিষিদ্ধ পলিথিনের অবাধ ব্যবহার: ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ অভাব নজরদারির
শিমুল তালুকদার
সদরপুর (ফরিদপুর) থেকে
সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও আইনগত কড়াকড়িকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ভয়াবহ আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার। মুদি দোকান থেকে শুরু করে কাঁচাবাজার, মাছের আড়ত, ফলের দোকান এবং ফুটপাতের খুচরা দোকানগুলোতেও এখন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে এই নিষিদ্ধ পলিথিন। প্রশাসনিক তদারকি ও নিয়মিত অভিযানের অভাবে পাইকারি মহাজন থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতারা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন পলিথিনের এই রমরমা ব্যবসা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কৃষ্ণপুর, সদরপুর সদর বাজার, সাড়েসাত রসি, বাবুর চর, পিয়াজখালি, মনিকোঠা ও কালিখোলা বাজারসহ প্রায় প্রতিটি হাট-বাজারে দেদারছে বিক্রি ও বিতরণ করা হচ্ছে পলিথিন। মুদি মালের বড় মহাজনরা পাইকারি হারে ছোট ছোট মুদি দোকানিদের কাছে পলিথিন বিক্রি করছেন। ক্রেতারা সামান্য কিছু কিনলেই বিক্রেতারা বিনা দ্বিধায় ধরিয়ে দিচ্ছেন পলিথিন ব্যাগ। এমনকি ফুটপাতে পাঁচ টাকার ছোলা বা বাদাম ভাজা কিনলেও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এই পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরিবেশবাদীদের মতে, আইন অনুযায়ী পলিথিন তৈরি, গুদামজাতকরণ, বিক্রি ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও নজরদারির অভাবেই অসাধু ব্যবসায়ীরা এই অবৈধ ব্যবসায় উৎসাহিত হচ্ছেন। যত্রতত্র পলিথিন ফেলায় মাটির উর্বরতা শক্তি মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া ড্রেন ও জলাশয়গুলোতে পলিথিন জমে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, যা সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্যকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল দায়সারা অভিযান নয়; বরং পলিথিন উৎপাদন ও পাইকারি বিক্রি বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং একই সাথে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা।





