সারাদেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘রংধনু জাতি’ গঠনের প্রতিচ্ছবি দৃশ্যমান তিন পার্বত্য জেলায়:- ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত ‘রংধনু জাতি’ গঠনের দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল ভাবনা পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার তিন জেলাতেই সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি। তিনি জানান, বিভিন্ন সম্প্রদায়, সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের সম্প্রীতিময় সহাবস্থানই এই চিন্তাধারার মূল প্রেরণা।
বৃহস্পতিবার রাতে বান্দরবান জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন বিরোধী নেতা ও বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান রাষ্ট্র মেরামতের যে ৩১ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন, সেখানে তিনি একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘রংধনু জাতি’ গঠনের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার প্রকাশ করেছিলেন। রংধনুর ভিন্ন ভিন্ন রং যেমন একত্রিত হয়ে বর্ণিল সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে, তেমনি তিন পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের প্রীতিময় সম্মিলন ঘটেছে। এই রূপরেখার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সর্বস্তরের নাগরিকের সমউন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করা—যার বাস্তব প্রতিফলন আজকের আনন্দঘন শারদীয় দুর্গা পূজাতেও দেখা যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এবার শারদীয় উৎসবে সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের জনগণ যাতে দীর্ঘ সময় পর পূরা মাত্রায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারে, সেজন্য বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সারা দেশে কঠোর ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যা প্রতিশ্রুতি দেন, তা বাস্তবে তার চেয়েও বেশি অর্জন করে দেখান। তাঁর আদর্শ ও দর্শনকে অনুসরণ করে একটি স্বনির্ভর ও রংধনু জাতি গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদাপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে যেকোনো ধরনের গুজব ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে সর্বস্তরের নাগরিকদের সজাগ থাকতে হবে। কোনো বিষয়ে সন্দেহ বা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হলে অবহেলা না করে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পার্বত্য জেলা পরিষদ কিংবা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করার অনুরোধ জানান তিনি।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বান্দরবান জেলার ৩৩টি পূজা মণ্ডপের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের হাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকার চেক আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজ মাম্যাচিং-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, বান্দরবান কেন্দ্রীয় দুর্গা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিপ্লব দাশ রাজেশ্বর, সাধারণ সম্পাদক রিটল কান্তি বিশ্বাসসহ জেলা পরিষদের সদস্যরা এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সনাতন ধর্মের নেতৃবৃন্দ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,