সারাদেশ

প্রতিকূলতা পেরিয়ে মাল্টা চাষে সফল শারমিন, অনুপ্রেরণা ছড়াচ্ছেন গ্রামজুড়ে

সাব্বির আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার (পাবনা )

নিজস্ব কৃষিজমি না থাকলেও স্বপ্ন দেখেছিলেন কৃষিকে ঘিরে স্বাবলম্বী হওয়ার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অন্যের জমি লিজ নিয়ে মাল্টা চাষ শুরু করেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের গৃহবধূ শারমিন খাতুন। শুরুতে সামাজিক বাধা ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও এখন বাগানভর্তি মাল্টা আর আয়ের সম্ভাবনায় বদলে গেছে তাঁর আত্মবিশ্বাস। স্থানীয়ভাবে ‘মাল্টা ভাবি’ নামে পরিচিত এই নারী উদ্যোক্তা এখন এলাকার অন্যদেরও বাণিজ্যিক ফল চাষে আগ্রহী করে তুলছেন।

নিজস্ব কৃষিজমি না থাকলেও স্বপ্ন দেখেছিলেন কৃষিকে ঘিরে স্বাবলম্বী হওয়ার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অন্যের জমি লিজ নিয়ে মাল্টা চাষ শুরু করেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের গৃহবধূ শারমিন খাতুন। শুরুতে সামাজিক বাধা ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও এখন বাগানভর্তি মাল্টা আর আয়ের সম্ভাবনায় বদলে গেছে তাঁর আত্মবিশ্বাস। স্থানীয়ভাবে ‘মাল্টা ভাবি’ নামে পরিচিত এই নারী উদ্যোক্তা এখন এলাকার অন্যদেরও বাণিজ্যিক ফল চাষে আগ্রহী করে তুলছেন।

২০২৩ সালের শেষদিকে দুই বিঘা জমি পাঁচ বছরের জন্য লিজ নিয়ে মাল্টা চাষের উদ্যোগ নেন শারমিন। বাগানে রোপণ করেন ভিয়েতনামি ও বারি-১ জাতের মাল্টার চারা। প্রথম দিকে ফলন কম থাকলেও সময়ের সঙ্গে গাছগুলো পরিণত হতে শুরু করে। বর্তমানে বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে সবুজ মাল্টা। উৎপাদিত ফলের আকার, স্বাদ ও মান নিয়ে সন্তুষ্ট তিনি। জমি লিজ, পরিচর্যা ও অন্যান্য খরচ মিটিয়ে গত বছর দুই লাখ টাকার বেশি লাভ হয়েছে বলে জানান এই উদ্যোক্তা। চলতি মৌসুমে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা মুনাফার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

শারমিনের বাগানটি রেললাইনের পাশের তুলনামূলক দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাঁর উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের এলাকায়। প্রতিদিনই বাগান দেখতে, ফল কিনতে এবং চাষের পদ্ধতি জানতে সেখানে আসছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কেউ জানতে চাইছেন চারা রোপণ ও পরিচর্যার কৌশল, কেউ আবার হিসাব কষছেন মাল্টা চাষে সম্ভাব্য লাভের।

শারমিন খাতুন জানান, তাঁদের এলাকায় সাধারণত ধান, সরিষা ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের চাষ হয়ে থাকে। সেখানে মাল্টা চাষের উদ্যোগ নেওয়ায় প্রথম দিকে অনেকের বিরূপ মন্তব্য শুনতে হয়েছে তাঁকে। তবে সেসব কথায় কান না দিয়ে নিজের পরিকল্পনায় অটল ছিলেন। এখন বাগানের ফলন ও আয়ের সম্ভাবনা দেখে অনেকেই তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করছেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় বাজারে সবুজ মাল্টার দাম ও চাহিদা নিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ কারণে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সম্ভাবনা বাড়াতে নতুন করে এক বিঘা জমিতে অস্ট্রেলীয় হলুদ জাতের মাল্টা চাষ শুরু করেছেন। তাঁর আশা, নতুন জাতের ফল বাজারে ভালো সাড়া ফেলবে এবং ব্যবসার পরিধি আরও বাড়বে।

 

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও শারমিনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা জানান, শারমিন খাতুনের মতো আগ্রহী ও পরিশ্রমী উদ্যোক্তাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ফল মেলায় তাঁর বাগানের মাল্টা প্রদর্শনের পর এলাকার আরও অনেক কৃষক এ ফল চাষে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ভবিষ্যতে চাটমোহরে মাল্টার আবাদ বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সীমিত সম্পদ, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও বাজারের চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে শারমিন খাতুনের এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে, পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও সঠিক কৃষি-পরামর্শ কাজে লাগাতে পারলে লিজ নেওয়া জমিতেও গড়ে তোলা সম্ভব লাভজনক কৃষি উদ্যোগ। তাঁর বাগান এখন শুধু আয়ের উৎস নয়, গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখারও একটি উদাহরণ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,