পিডি পদ থেকে অব্যাহতির পরও চট্টগ্রামে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, তদন্তে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে প্রকল্পটির সাবেক পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলামকে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে অন্যত্র বদলির দাবি উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি পেলেও তিনি এখনো চট্টগ্রাম অঞ্চলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে প্রকল্পের নতুন পরিচালকের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে থাকাকালে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠা অনিয়মের নথিপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম তদন্তের ক্ষেত্রে নুরুল ইসলামের বর্তমান কর্মস্থল নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন তিনি এবং নতুন প্রকল্প পরিচালকের কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীরা জানান, ৬০২ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দরপত্র প্রক্রিয়া, ঠিকাদারি কার্যক্রম, নির্মাণকাজের গুণগত মান, বিল পরিশোধ এবং উপকরণ সরবরাহসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের বক্তব্য গ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথিপত্রের অখণ্ডতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের মতে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলামকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাইরে বদলি করা হলে নতুন প্রকল্প পরিচালকের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে এবং তদন্তের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সহজ হতে পারে বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।
এ কারণে নুরুল ইসলামের বদলির পাশাপাশি নতুন প্রকল্প পরিচালকের কাজে বাধা সৃষ্টি এবং তদন্তে প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি রয়েছে তাঁদের।
এদিকে, প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। নতুন প্রকল্প পরিচালকের কাজে বাধা দেওয়া কিংবা তদন্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানা এবং সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের আনুষ্ঠানিক ফলাফল পাওয়া গেলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।




