সারাদেশ

মাদারীপুরের এক কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা মাত্র দুজন শিক্ষার্থী পাশ! সমালোচনার ঝড়

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ মাদারীপুর সদর উপজেলার মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় মাত্র দু’জন শিক্ষার্থী পাশ। এ ফলাফল নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখা থেকে ১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করেছেন মাত্র দুজন। বাকি ১১ জনই শিক্ষার্থীই ফেল করেছেন। অর্থাৎ, পরীক্ষায় পাসের হার প্রায় ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আজ শনিবার ৩১ অক্টোবর এ ফলাফল পাওয়া যায়।
এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ধারাবাহিকতা এবং সার্বিক একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং বিষয়ভিত্তিক পাঠদানে ঘাটতির কারণে তাঁদের প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে, কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগ, বেতন পরিশোধ ও ক্লাস বণ্টন নিয়ে জটিলতা থাকায় পাঠদান কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
২০২২ সালে কলেজ শাখার অনুমোদন
প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে তিনটি বিভাগ নিয়ে মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কলেজ শাখা অনুমোদন পায়। তবে কলেজ শাখা চালুর পর থেকে পরীক্ষার ফলাফল প্রত্যাশিত পর্যায়ে রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, আগের দুই বছরের ফলাফলও সন্তোষজনক ছিল না। চলতি বছরের ফলাফল সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলাফলের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, শিক্ষকদের পাঠদান, শিক্ষকসংকট এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কার্যকারিতা সব দিক বিবেচনায় নিয়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
‘ঠিকমতো আইসিটি ক্লাস হয়নি’, শিক্ষার্থীর অভিযোগ
কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের ঠিকমতো আইসিটি ক্লাস হয়নি। ক্লাসের জন্য প্রতিনিধিকে শিক্ষকদের ডাকতে হতো। একজন স্যার আরেকজন স্যারকে পাঠানোর চেষ্টা করতেন। প্রধান শিক্ষককে বারবার বলার পরও বিষয়টি সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ দেখিনি। বিনা মূল্যে ভর্তির কথা বলা হলেও পরে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।”
এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, কলেজে নিয়মিত ক্লাস হয় না এবং শিক্ষকসংকট রয়েছে। তাঁদের দাবি, শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ নিয়েও সমস্যা থাকায় কোনো কোনো শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নিতে আসেন না। ফলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত প্রস্তুতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বেতন ও ক্লাস বণ্টন নিয়ে শিক্ষকদের অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের কয়েকজন শিক্ষকও প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সময়মতো বেতন দেওয়া হয় না এবং কোন শিক্ষক কোন বিষয়ের ক্লাস নেবেন, তা যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হয় না। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে ক্লাস দেওয়া হয়। এক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, “হিসাববিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা একজন শিক্ষককে ইংরেজি ক্লাস দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে কথা বলতে গেলে অধ্যক্ষ স্থানীয় প্রভাবের কথা তুলে ধরেন বলে আমাদের অভিযোগ। এ কারণে অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে চান না। আমরা যেভাবে পাঠদান করতে চাই, সেভাবেও সব সময় সুযোগ পাই না।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা
ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে। ‘মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ’ নামের একটি পেজে ফলাফল প্রকাশের পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরিয়ে পরলে এ নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও ব্যবহারকারী কলেজটির ফলাফল ও পাঠদান নিয়ে মন্তব্য করেন। কিছু মন্তব্যে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘টিকটক কলেজ’ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব মন্তব্যের বাইরে গিয়ে ফলাফলের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ যাচাই এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে জানতে মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কাজী ওবায়দুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমরা দেখেছি এবং শুনেছি। মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ফলাফল একেবারেই খারাপ হয়েছে। কী কারণে এমন ফলাফল হয়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখব।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,