সারাদেশ

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে সরকারি ওষুধ পোড়ানোর অভিযোগ: উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর তদন্ত কমিটি

জহুরুল ইসলাম ​রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

​কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ করে রাতের আঁধারে পুড়িয়ে ফেলার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতিবাদের মুখে হাসপাতাল চত্বরে হট্টগোল ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
​
​সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বস্তাভর্তি ওষুধ পোড়ানো হচ্ছে—এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আপত্তি জানান।
​রাজিবপুর সদর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব আল আমিন জানান
​”রাতের আঁধারে তিন বস্তা সরকারি ওষুধ পোড়ানো হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে যাই এবং সেখানে গিয়ে তিন বস্তা ওষুধ ফেলে রাখতে দেখি।”
​স্থানীয় বাসিন্দাদের মূল অভিযোগ, চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ হাসপাতালে এসে প্রায়ই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ পান না। বাধ্য হয়ে তাঁদের বাইরের ফার্মেসি থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে হয়। অথচ রোগীদের না দিয়ে বস্তা বস্তা সরকারি ওষুধ ফেলে রেখে মেয়াদোত্তীর্ণ করা হয়েছে।
​
​হাসপাতাল সূত্রে ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহান নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে লুৎফর রহমান নামের এক ব্যক্তি হাসপাতালের সার্বিক তদারকি করেন।
​স্থানীয়দের দাবি, লুৎফর রহমান একটি নির্ধারিত প্রকল্পে অস্থায়ী নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় হাসপাতালে অবস্থান করছেন এবং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
​
অভিযোগের বিষয়ে ডা. সারওয়ার জাহান বলেন, “হাসপাতাল পরিষ্কারের জন্য কিছু পুরনো কাগজপত্র পোড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তার সঙ্গে করোনার সময়কার কিছু পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ছিল।”
​
খবর পেয়ে রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সায়েকুল হাসান খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পুড়িয়ে ফেলা ওষুধ ও বিভিন্ন সরঞ্জামের নমুনা সংগ্রহ করেন। তিনি জানান, বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
​
কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস স্পষ্টভাবে জানান, “এভাবে খোলা জায়গায় ওষুধ পোড়ানোর কোনো নিয়ম নেই।”
​
​ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত দল ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে এবং তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,