সম্পাদকিয়

পরিবার, দায়িত্ব ও পারিবারিক সম্পর্কের ভারসাম্য (সমাজব্যবস্থা ও বাস্তবতা বিবেচনায়) কিছু কথা :

মরিয়ম ইয়াসির

আমাদের সমাজব্যবস্থায় পরিবার শুধু একসাথে বসবাসের নাম নয়; এটি ভালোবাসা, দায়িত্ব, সম্মান, সহানুভূতি এবং পারস্পরিক সম্পর্কের একটি সামাজিক ও নৈতিক প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে মা, ছেলে, পুত্রবধূ এবং নাতি-নাতনিদের নিয়ে গঠিত পরিবারকে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবার হিসেবে দেখি, যেখানে সবারই একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা ও দায়িত্ব রয়েছে।

যদি একজন মা স্বামীহারা হন এবং তার একমাত্র ছেলের সঙ্গে একই ছাদের নিচে থাকেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে সম্মান, সান্নিধ্য এবং মানসিক সহায়তা প্রত্যাশা করেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শারীরিক চাহিদার চেয়ে মানসিক চাহিদা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন একাকীত্ব, অবহেলা বা দূরত্ব তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিতে পারে।

অনেক সময় শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মধ্যে অতীতের ভুল বোঝাবুঝি বা মানসিক কষ্টের কারণে সম্পর্ক দূরত্বপূর্ণ হয়ে যায়। তবে যদি কোনো শাশুড়ি পরবর্তীতে নিজের ভুল বুঝে আন্তরিকভাবে সম্পর্ক ঠিক করতে চান, তাহলে সেই পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য না করে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা উচিত।

এখানে ছেলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন ছেলে শুধু স্বামী নয়, তিনি একজন সন্তানের ভূমিকাতেও থাকেন। তাকে এমনভাবে ভারসাম্য রক্ষা করতে হয় যাতে মা অবহেলিত না হন এবং স্ত্রীও অসম্মানিত বোধ না করেন। পরিবারে শান্তি বজায় রাখা তার নৈতিক দায়িত্বের অংশ।

তবে বাস্তব জীবনে অনেক সময় দেখা যায়, ছেলে ও তার স্ত্রী আলাদা সংসার পরিচালনা করেন বা শারীরিকভাবে আলাদা থাকেন। এমন অবস্থায়ও ছেলের মায়ের প্রতি দায়িত্ব কমে যায় না। বরং তখন দায়িত্ব হয় নিয়মিত খোঁজ নেওয়া, মানসিকভাবে পাশে থাকা এবং প্রয়োজনে সহায়তা করা। আলাদা থাকলেও মাকে কখনো একা বা অবহেলিত অনুভব করানো উচিত নয়।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অনেক সময় দেখা যায় মেয়ের বাপের বাড়ি থেকে শুধু মেয়ে ও জামাইকে দাওয়াত বা ফোন করে ডাকা হয়, অথচ ছেলের মা কে গুরুত্ব কম দেওয়া হয়। এই ধরনের আচরণ পারিবারিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং অপ্রয়োজনীয় বিভাজন তৈরি করে। কারণ পরিবারে মেয়ের শাশুড়ি অর্থাৎ ছেলের মা সমানভাবে পরিবারের অংশ। তিনি যদি দাওয়াত ক বুল ক রেন কিন্তু ফিজিক্যালি না যান তবুও এটি তাকে জানানো টা তার প্রতি সম্মান এবং আন্তরিকতা দেখানো।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—যখন ছেলে ও তার স্ত্রী মাকে একা রেখে দাওয়াতে চলে যান, তখন সেই মা মানসিকভাবে কষ্ট ও একাকীত্ব অনুভব করতে পারেন। বিশেষ করে বয়স্ক বা বিধবা মায়ের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি সংবেদনশীল বিষয়। পরিবারের একজন সদস্যকে এভাবে একা রেখে যাওয়া অনেক সময় অজান্তেই কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই ধরনের পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিষ্টাচার হলো—কোথাও দাওয়াতে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে শাশুড়ি বা বড়দের আগে থেকে জানানো এবং সম্মান দেখানো। আগে থেকে জানালে এটি শুধু শিষ্টাচার নয়, বরং পারিবারিক শ্রদ্ধা ও সম্পর্কের প্রতি যত্নের একটি সুন্দর প্রকাশ। এতে ভুল বোঝাবুঝি, কষ্ট বা অবহেলার অনুভূতি তৈরি হয় না।

এখানে পুত্রবধূর ভূমিকাও আছে। পুত্রবধূ একজন স্বাধীন ব্যক্তি এবং তাকে ভালোবাসা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না, তবে পরিবারের অংশ হিসেবে তারও কিছু সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব থাকে। যেমন—অতীতের কষ্টকে সবসময় বর্তমান সম্পর্কের বাধা হিসেবে না রাখা, শাশুড়ি আন্তরিক হলে ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সুযোগ দেওয়া, স্বামীকে মা ও স্ত্রীর মধ্যে কঠিন অবস্থায় না ফেলা এবং পারিবারিক সৌজন্য বজায় রাখা।

অন্যদিকে শাশুড়িরও উচিত অতীতের ভুল বা কষ্টকে স্বীকার করে ধৈর্য ও সম্মানের মাধ্যমে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করা এবং নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলার মানসিকতা রাখা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পরিবারে কারও আনন্দ যেন অন্য কারও কষ্টের কারণ না হয়। সম্পর্ক তখনই সুন্দর থাকে যখন সবাইকে সম্মান, গুরুত্ব এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়।

সুতরাং একই ছাদের নিচে থাকুক বা আলাদা সংসার হোক, কিংবা সামাজিকভাবে দাওয়াতের বিষয় হোক—পরিবারে শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজন সম্মান, দায়িত্ববোধ, যোগাযোগ এবং মানবিকতা।

১. মা,
২. ছেলে ও
৩. পুত্রবধূ—
৪. ন ন দ, ন নশ এদের ও কিছু ভূমিকা আছে তবে প্রথম তিনজনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে

এই তিনজনেরই ভূমিকা আছে পরিবারকে সুন্দর, ভারসাম্যপূর্ণ এবং সম্মানজনক করে গড়ে তোলার জন্য।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সম্পাদকিয়

বদলে যাচ্ছে কৃষি, ঝুঁকিতে স্বাস্থ্য

There are many variations of passages of Lorem Ipsum available but the majority have suffered alteration in that some injected
Uncategorized সম্পাদকিয়

সম্পাদকের কথা

There are many variations of passages of Lorem Ipsum available but the majority have suffered alteration in that some injected