“মাছ নয়, বিষে মরল এক চাষির শ্রম-ঘাম”
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. তোফাজ্জল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে আসছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি কয়েক দফায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ক্রয় করে পুকুরে অবমুক্ত করেন। এরপর নিয়মিত পরিচর্যা, খাদ্য সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাছগুলো বড় করে তুলছিলেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী ইব্রাহিম আলীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিভিন্ন সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি পুকুরটি নিজের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং এ নিয়ে নানা ধরনের বিরোধ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তের দাবি, গত ৪ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি রাতের আঁধারে পুকুরে ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপের পাশাপাশি বিষ প্রয়োগ করেন। স্থানীয় এক নারী এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বিষয়টি দেখতে পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিন ৫ জুন ভোরে স্থানীয় লোকজন পুকুরের পানিতে মাছ ভেসে থাকতে দেখে বিষয়টি তোফাজ্জল হোসেনকে অবহিত করেন। পরে তিনি এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৫ কেজি মাছ মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এতে তার উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেশী ইব্রাহিম আলীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ কারণে তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমি কষ্ট করে মাছ চাষ করে আসছি। পরিকল্পিতভাবে আমার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলা হয়েছে। এতে আমার আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে অভিযুক্ত ইব্রাহিম আলীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তারাগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, মাছ চাষকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা দুঃখজনক। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।




