নার্সিংহোমে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে ইনজেকশনের ১০ মিনিট পরেই মৃত সন্তান প্রসব:পরিবারের দাবি ভুল চিকিৎসা
হাটহাজারী প্রতিনিধি:
হাটহাজারী উপজেলাধীন চসিক ১ নং দক্ষিণ পাহাড়তলী চৌধুরীহাট নার্সিংহোম ক্লিনিকে পম্পিদাশ নামে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে পেট ব্যথার ইনজেকশন পুশ করায় অপরিপূর্ণ বাচ্চা প্রসবের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটেছে বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবার। পরিবারের অভিযোগ একজন অন্তঃসত্ত্বাকে পেট ব্যথার ইনজেকশন পুশ করায় মূলত এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ঘটনারদিন রাত আড়াইটার দিকে তীব্র পেট ব্যথা নিয়ে ওই ক্লিনিকে যান পম্পিদাশ। দায়িত্বরত ডাক্তার তাকে দেখেই একটি ইনজেকশন পুশ করেন। এর পর পরপরই ভুক্তভোগী নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এক পর্যায়ে একটি মৃৃত বাচ্চা প্রসব হয়।
পম্পিদাশ বলেন, কোমরে একটি ও হাতের ক্যানোলার মাধ্যমে দুটিসহ মোট তিনটি ইনজেকশন দেয়া হয়। দেয়ার পর পরই এ ঘটনা। এসময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। এদিকে ঘটনার পর পরই পুশ করা ইনজেকশনের প্রেশক্রিপশন না দিয়ে দ্রুত রিলিজ দেয়ার চেষ্টা করলে ভুক্তভোগী পরিবারের ভুল চিকিৎসার সন্দেহের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা ননদ জানান, প্রেসক্রিপশন চাইতেই ডিউটি ডাক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। অহেতুক বিবাদে জড়াচ্ছেন বলেও তাকে শাসান তিনি। তিনি বলেন, একজন অন্তঃসত্ত্বাকে ফার্মেসীতে একটা নাপা ট্যাবলেট দিতেও হাজারবার চিন্তা করতে হয় সে জায়গায় একাধিক ইনজেকশন পুশ এটা অবশ্যই তদন্তের বিষয়।
ক্লিনিকের ম্যানেজার মোহাম্মদ আব্দুস সালাম মুঠোফোনে জানান, তিনি অসুস্থ থাকার ফলে বিষয়টি সম্পর্কে জানেননা। তবে, কারো দোষ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনার সত্যতা জানতে শুক্রবার কয়েকজন সাংবাদিক তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ঘটনাস্থলে গেলে মুমিন নামে এক ব্যক্তি নিজেকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি দাবি করে তথ্য সংগ্রহে বাধা প্রদান করেন সাংবাদিকদের। একটি ভিডিও ক্লিপসে তিনি নিজেকে হাটহাজারীর সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের কর্মি দাবি করছেন। নিউজ করতে হলে তিনি করবেন বলেও ভিডিও ক্লিপসে স্পষ্ট শোনা গেছে। জানা গেছে, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোঃ ফোরকান চৌধুরী। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তিনি (মুমিন) ওই পদের নয়। এদিকে স্থানীয় সূত্রে অনেকে বলেন, তিনি সরকারি দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং বর্তমানে ওই ক্লিনিকের সাথেও জড়িত। মূলত এ কারণেই ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা ও হুমকি দেয়ার মত দুঃসাহস দেখিয়েছেন।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি অনুযায়ী বিষয়টি তদন্তে কাজ করছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের বাধা দেয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছে সাংবাদিকরা। তারা বলেন, এভাবে প্রকাশ্যে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়া গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরুপ। তারা অনতিবিলম্বে দোষির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সাংসদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।




