জাতীয় রাজনীতি রাজনীতি সারাদেশ

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় জেলা মহিলা দলের সভাপতি শাহিদা আক্তার

উজ্জ্বল কুমার দাস ,বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি।।
​বাগেরহাটের কচুয়াসহ জেলাজুড়ে তৃণমূল রাজনীতিতে সক্রিয় মুখ, বাগেরহাট জেলা মহিলা দলের সভাপতি শাহিদা আক্তার আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার সুবাদে তিনি এবার সংসদীয় রাজনীতিতে সরাসরি ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।
​শাহিদা আক্তার বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন ইউনিটে মহিলা দলকে সুসংগঠিত করতে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছেন। রাজনৈতিক হামলা-মামলা ও প্রতিকূল পরিবেশেও দলের প্রতি তার অবিচল নিষ্ঠা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নারীদের শক্তিশালী করতে নারীদের পক্ষে বিদেশে গিয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
​সংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, “আমি সারা জীবন সাধারণ মানুষের অধিকার এবং নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করেছি। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রদান করে, তবে বাগেরহাটের অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে আমি সংসদে কথা বলতে চাই। বিশেষ করে কচুয়া ও বাগেরহাটের নারীদের সামাজিক মর্যাদা ও উন্নয়নে আমি নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।”
দলের হাইকমান্ডের ওপর আস্থা রেখে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও শ্রমের মূল্যায়ন হিসেবে দল তাকে এবার সুযোগ দেবে বলে তিনি আশাবাদী।
​বাগেরহাটের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, শাহিদা আক্তারের মতো অভিজ্ঞ ও রাজপথের লড়াকু নেত্রীকে সংসদ সদস্য হিসেবে পেলে জেলা মহিলা দল আরও শক্তিশালী হবে। বর্তমানে তিনি কচুয়া ও বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়মিত মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন।
​অধ্যাপিকা শাহিদা আক্তারের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় ছাত্রজীবনেই। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। তৎকালীন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
​২০২২ সালের ১৫ এপ্রিল অধ্যাপিকা শাহিদা আক্তারকে সভাপতি এবং নার্গিস আক্তার ইভাকে সাধারণ সম্পাদক করে বাগেরহাট জেলা মহিলা দলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ এই কমিটির অনুমোদন দেন। তার নেতৃত্বে বাগেরহাটের ৯টি উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে মহিলা দল অনেক বেশি সুসংগঠিত এবং শক্তিশালী হয়েছে। বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসন আমলে শাহিদা আক্তার চরম প্রতিকূলতার মধ্যে রাজনীতি করেছেন। দলের দুর্দিনে রাজপথে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার পুলিশি বাধা ও রাজনৈতিক মামলার সম্মুখীন হয়েছেন।
​ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিটি আন্দোলনে বাগেরহাটে মহিলা দলের ব্যানারে বড় বড় মিছিল ও সমাবেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে বাগেরহাট জেলার প্রতিটি উপজেলা বিশেষ করে কচুয়া ও সদর উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের নারী কর্মীদের সাথে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যা তাকে একজন জনবান্ধব নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
​কচুয়া উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন শিক্ষাবিদ (অধ্যাপিকা) হিসেবেও পরিচিত। শিক্ষকতা পেশায় থাকার কারণে তিনি সময়ানুবর্তিতা, নথিপত্র ব্যবস্থাপনা এবং একাডেমিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত দক্ষ। এই অভিজ্ঞতা তাকে সরকারি বা সংসদীয় নীতি-নির্ধারণী কাজে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখে।
তার এই মার্জিত ব্যক্তিত্ব এবং শিক্ষিত ব্যাকগ্রাউন্ড স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে নারী অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সংকটকালীন মুহূর্তে দ্রুত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শাহিদা আক্তারের অন্যতম গুণ। প্রতিকূল পরিবেশেও কীভাবে দলীয় কর্মসূচি সফল করা যায় এবং কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা যায়, সেই কৌশল নির্ধারণে তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণ।কেবল দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেন। নাগরিক সমস্যা সমাধানে তদ্বির করা বা প্রশাসনের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করার ক্ষেত্রে তিনি মার্জিত ও জোরালো ভূমিকা পালন করেন।
বর্তমানে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, দল ক্ষমতায় থাকার বা শক্তিশালী অবস্থানে থাকার সময়ে তিনি তার ত্যাগের মূল্যায়ন হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। জেলা মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ সহ তৃণমূলের অসংখ্য নেতাকর্মী কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন শাহিদা আক্তারের মতো একজন পরীক্ষিত এবং শিক্ষিত নেত্রীকে সংসদে বাগেরহাটের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়া হয়।
​শাহিদা আক্তার শুধু একজন নেত্রীই নন, বরং বাগেরহাটের জাতীয়তাবাদী শক্তির এক বিশ্বস্ত স্তম্ভ। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ত্যাগের বিনিময়ে তিনি আজ সংরক্ষিত আসনে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,