Uncategorized

চাঁদপুর তিন নদীর মোহনায় ভ্রমণ পিপাসুদের উপচেপড়া ভীড়

মোঃ সোহেল রানা :
ঈদুল আজহার ছুটিতে চাঁদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী বিনোদনকেন্দ্র বড় স্টেশন মোলহেডে দেখা গেছে মানুষের ঢল। বিনোদনের জন্য আলাদা কোনো বড় কেন্দ্র না থাকায় জেলার প্রায় ২৮ লাখ মানুষের কাছে এই তিন নদীর মোহনা হয়ে উঠেছে প্রধান ঘোরাঘুরির জায়গা।

ঈদুল আযহার নামাজ পড়ে গরু জবাইর পর থেকেই চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে শুরু করে আশপাশের কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ভিড় জমাতে থাকেন এই মোহনাস্থলে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়তে থাকে, বিকেলে যা রূপ নেয় জনসমুদ্রে।

এখানে মিলিত হয়েছে বাংলাদেশের তিন গুরুত্বপূর্ণ নদী—পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া। নদীর বুকে আলো-ছায়ার খেলা, ঢেউয়ের শব্দ আর নৌকার চলাচল মিলিয়ে পুরো এলাকা দিনভর এক মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় দৃশ্যটি আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। 

পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে মানুষ উপভোগ করছেন মোহনার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। 

দর্শনার্থীরা কেউ নদীর পাড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছেন, কেউবা মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে স্মৃতি ধরে রাখছেন। অনেকে ট্রলার ও নৌকায় চড়ে মেঘনার বুকে জেগে ওঠা বালুচরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, যাকে স্থানীয়রা মজা করে “মিনি কক্সবাজার” বলে থাকেন।

চাঁদপুর সদরের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এই জায়গাটাই আমাদের একমাত্র ভরসা। তাই ঈদ এলেই এখানে আসি।

অন্যদিকে মানিকগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে আসা সাইদুল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটিতে ভিন্ন পরিবেশে সময় কাটাতে এসে খুব ভালো লাগছে। নদীর সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ।

লক্ষ্মীপুর থেকে আসা পাঁচ বন্ধুর একজন মিনহাজ উদ্দিন বলেন, বন্ধুরা মিলে এখানে এলে সময়টা দারুণ কেটে যায়। নদীর ঢেউ আর পরিবেশ সব মিলিয়ে আলাদা আনন্দ পাওয়া যায়।

এদিকে চাঁদপুর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশ কঠোর নজরদারি রাখছে। নৌ থানা, সদর মডেল থানা ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত ও বিনোদন উপভোগ করতে পারেন।

সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনা এখন পরিণত হয়েছে এক প্রাণবন্ত জনসমুদ্রে, যেখানে প্রকৃতি আর মানুষের আনন্দ মিলেমিশে তৈরি করছে উৎসবের আবহ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

Uncategorized সম্পাদকিয়

সম্পাদকের কথা

There are many variations of passages of Lorem Ipsum available but the majority have suffered alteration in that some injected
Uncategorized

Hello world!

Welcome to WordPress. This is your first post. Edit or delete it, then start writing! Print 🖨