জাতীয় সারাদেশ

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা

জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি

দেশের বেকারত্ব কমিয়ে দক্ষ ও কর্মমুখী জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বিএনপির মহিলা সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা।

তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদের বাস্তবভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে হবে। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় রংপুরের তারাগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা মহাবিদ্যালয়ে চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা বলেন, “দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। বর্তমান সময়ে দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। একটি শিক্ষিত জাতির পাশাপাশি আমাদের প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে হবে।”

তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নও জরুরি। একটি সুন্দর ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে বেকারত্বের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। একজন শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করে নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন। ফলে ব্যক্তি, পরিবার ও জাতীয় অর্থনীতি—তিন ক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তিনি বলেন, “দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদেরও আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে। শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার সুযোগের বৈষম্য কমিয়ে আনতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।”

কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার এবং জেলা বিএনপির সদস্য ও তারাগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মো. মতিয়ার রহমান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন তারাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শিপু, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাকদুম আলমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ সময়ের দাবি। বর্তমান বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, বাস্তব কাজের দক্ষতা এবং পেশাভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগও তৈরি করতে হবে।

তারা বলেন, কারিগরি শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীকে শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে তৈরি করে না, বরং উদ্যোক্তা হওয়ার পথও তৈরি করে। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণরা নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন। তাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বেকারত্ব নিরসনে কারিগরি শিক্ষাকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে।

আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা, ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকের মাধ্যমে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে কলেজ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা। এ সময় শিক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

উল্লেখ্য, রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা এমপি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানার তারাগঞ্জে এটিই ছিল প্রথম সফর। প্রথম সফরেই একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবন উদ্বোধন এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে কারিগরি শিক্ষার অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের পথ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে তরুণদের কর্মমুখী শিক্ষায় সম্পৃক্ত করে বেকারত্ব কমানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,