প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবার অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতের দাবিতে জাতীয় স্বাস্থ্য পেশাজীবী ঐক্যের সংবাদ সম্মেলন
বিশেষ প্রতিনিধি: শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন,
পদোন্নতির কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত,ডিএমএফ ডিগ্রিধারীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করন এবং
হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী সম্মানজনক পেশাগত পরিচয় বাস্তবায়ন এর দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় স্বাস্থ্য পেশাজীবী ঐক্য।
মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় স্বাস্থ্য পেশাজীবী ঐক্যের আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন বাদশা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররা। কিন্তু তৃণমূল স্বাস্থ্যব্যবস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত মর্যাদা, পদোন্নতি, উচ্চশিক্ষা ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটসহ নানা বৈষম্যের মুখোমুখি। এসব অনিষ্পন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রান্তিক জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২,০৮৯ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে তাঁদের বিএমডিসি নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়। ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে আরও ৩,১৭৬টি পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবায় একটি শক্তিশালী জনবল কাঠামো গড়ে ওঠে।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও কার্যকর নিয়োগ না হওয়ায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমিত জনবল দিয়ে দায়িত্ব পালনকারী পেশাজীবীদের ওপরও বাড়ছে কর্মের চাপ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণসহ পদোন্নতির বিষয়ে সুপারিশ করেছে। কিন্তু সেই সুপারিশ এখনো বাস্তবায়িত না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। পাশাপাশি ডিএমএফ ডিগ্রিধারীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুসংগঠিত সুযোগ সৃষ্টি এবং হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী সম্মানজনক পেশাগত পরিচয় বাস্তবায়নের বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।
জাতীয় স্বাস্থ্য পেশাজীবী ঐক্য মনে করে, এই দাবিগুলো কোনো নির্দিষ্ট পেশাজীবী গোষ্ঠীর ব্যক্তিস্বার্থ নয়; বরং এগুলো দেশের তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার প্রথম সারিতে দায়িত্ব পালনকারী পেশাজীবীদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়—এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও দাবি করেন তিনি।
তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূলের স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের অধিকার, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশও নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় দাবি করে তিনি বলেন,জাতীয় স্বাস্থ্য পেশাজীবী ঐক্যের মূল বার্তা একটাই—বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা; আধিপত্য নয়, সমমর্যাদা; প্রতিশ্রুতি নয়, চাই কার্যকর বাস্তবায়ন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব এস এম মনিরুল ইসলাম সাদাফ, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংগঠনটির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান জুয়েল, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




