ফরিদগঞ্জে শাশুড়ীর ওপর ছেলের বউ’র নির্যাতন, থানায় অভিযোগ দিয়েও নেই প্রতিকার
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পুত্রবধূ কর্তৃক শাশুড়িকে নৃশংসভাবে তালা দিয়ে পেটানোর ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজের ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, রুমা আক্তার (৩০) নামের ওই নারী তার শাশুড়ি রোকেয়া বেগমকে সিসিটিভি ফুটেজের আড়ালে বেদড়ক আঘাত করছেন। শাশুড়ির ভাষ্যমতে তালা দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে এবং গালাগালিও করেছে। ভিডিওর মাঝখানে দেখা গেছে ছেলের বউ দৌড়ে গিয়ে পুকুরে কি যেনো পেলেছেন, পরে জানা গেলো যে তালা দিয়ে শাশুড়িকে আঘাত করা হয়েছে যাতে তার নমুনা কেউ খুঁজে না পায় এজন্য রুমা আক্তার একাজটি করেছেন। ঘরে ছিলেন শাশুড়ী একা। আঘাতের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে চিৎকার করতে থাকেন শাশুড়ী যা সিসিটিভি ফুটেজে দেখে স্পষ্ট হওয়া গেছে। তার আত্মচিৎকারে কেউ এগিয়ে আসেননি হয়তোবা তার শব্দ কারো কানে গিয়ে পৌছায়নি তবে সর্বশেষ ভিডিওতে একজন ব্যক্তিকে দেখা গেছে এগিয়ে আসতে। সাথে ছিলো তার ছোট্র নাতনি সেও ভয়ে কিছু বলতে পারছে না। স্বামী ইমরানের কাছে ভিডিও থাকা সত্ত্বেও পারিবারিক সম্মান ক্ষুন্ন হবে বিধায় তা প্রকাশ করেননি। থানা পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে ঐদিনই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ছেলের বউকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভুল স্বীকার করে বারবার স্বামীর বাড়িতে আসার চেষ্টা করেছে রুমা আক্তার, এমনকি শাশুড়ীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছে। কিন্তু ছেলে নাছোরবান্দা মাকে আঘাত করেছে তাই বউকে আর রাখবে না। মোহরানার টাকা জোগাড় হচ্ছে না স্বামীর। দেরী সহ্য হয় না তাই লোকবল নিয়ে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে সন্ত্রাসী কায়দায় আবারও স্বামীর বাড়িতে এসে শাশুড়ীকে হুমকি ধমকি দিতে থাকে। প্রায় ৩ ঘন্টা যাবৎ শাশুড়ী ভয়ে ঘরের ভিতর অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকে। পরে স্বজনরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, ১ম স্বামীর ঘরেও শাশুড়ির ওপর নির্যাতন করেছেন রুমা আক্তার।
জানা যায়, গত ২০২৬ সালের মার্চের ২৬ তারিখ উপজেলার রুপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও গ্রামের মৃধা বাড়ির টেলু মৃধার মেয়ে রুমা আক্তারের সাথে পাশ্ববর্তী বদরপুর গ্রামের খান বাড়ীর মৃত হাছান খানের ছেলে প্রবাসী ইমরান খানের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর সে বাহিরে চলে যায়। এরপর থেকেই বউ-শাশুড়ির মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক তৈরি হশ। যা এক পর্যায়ে বড় ঘটনায় রুপ নেয়।
গত প্রায় ৪ মাস ধরে তার শশাশুড়িকে কারণে-অকারণে নির্যাতন করে আসছেন- এমন অভিযোগ শাশুড়ী রোকেয়া বেগমের। ছেলে প্রবাসে যাওয়ার পর থেকে আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে থাকেন ছেলের বউ। এরপরও ছেলে ও নাতনির কথা চিন্তা করে মুখ বুজে সব সহ্য করেছি।
ভুক্তভোগী রোকেয়া বেগম এ বিষয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছেন।
তার স্বামী ইমরান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমার স্ত্রীর হঠাৎ করে মাথা গরম হয়ে গেলে সে আমার মাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং নির্যাতন করতে থাকে। আমি বিদেশে থাকি মা একা বাড়িতে থাকে। মায়ের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে আমার ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় স্বর্ণগহনা নিয়ে যায়। এবং তা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। আমি এই সব ঘটনার ভিডিও ছবি প্রমাণ হিসেবে রেকর্ড করেছি।
অভিযোগের বিষয়ে রুমা আক্তার বলেন, চলতি বছরের মার্চ মাসে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের এক মাস পর আমার স্বামী প্রবাসে চলে যান। এর দুই থেকে তিন মাস পর থেকে তিনি আমার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিয়ে আমি থানায় অভিযোগ করেছি। আজ ৩০ অক্টোবর বসার কথা ছিল, কিন্তু তারা কেউ উপস্থিত হননি। তাই বাধ্য হয়ে আমার মা, খালা ও ভাইকে নিয়ে এ বাড়িতে এসেছি। তবে শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ এরশাদ উল্যা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। দ্রুত উভয় পক্ষকে থানায় ঢেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




