মাদক নয়, মাঠই হোক তারুণ্যের নতুন নেশা: তারাগঞ্জে ক্রীড়া জাগরণে প্রশাসন
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
মাদক, ক্ষতিকর অনলাইন জুয়া, কিশোর অপরাধ এবং নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয় থেকে তরুণ ও যুবসমাজকে দূরে রাখতে রংপুরের তারাগঞ্জে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে পড়া স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনকে পুনরুজ্জীবিত করে তরুণদের মাঠমুখী করার মাধ্যমে একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠভিত্তিক ক্রীড়া কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় ক্রীড়া ক্লাব, সংগঠন ও তরুণ খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্রীড়া কর্মকাণ্ড পরিচালনায় প্রয়োজনীয় উপকরণের সংকট দূর করতে স্থানীয় খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের হাতে ফুটবলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজনেও প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিন পর উপজেলার বিভিন্ন মাঠে আবারও খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং তরুণদের মধ্যে ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদক, অনলাইন জুয়া, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এমন বাস্তবতায় তাদের সুস্থ বিনোদন ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে খেলাধুলা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মাঠে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হলে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও দলগত চেতনা গড়ে উঠবে।
তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাববর হোসেন বলেন, ‘তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা, ক্ষতিকর অনলাইন জুয়া এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। উপকরণের অভাবে কোনো মাঠে খেলাধুলা বন্ধ থাকবে—এটি কাম্য নয়। সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে তরুণদের মাঠে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু অবকাঠামো বা ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করলেই হবে না; নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও ক্রীড়ানুরাগীদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’
উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগী, সমাজসেবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মাঠকেন্দ্রিক ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগীদের প্রত্যাশা, নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন ও ক্রীড়া সামগ্রী সরবরাহের মাধ্যমে তারাগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও খেলাধুলার পরিবেশ আরও বিস্তৃত হবে। এর ফলে নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসার পাশাপাশি তরুণদের মাদক, অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠন ও সামাজিক নেতৃত্বকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তারাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের চলমান এই উদ্যোগ সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টারই একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন তারা।





