“সনদের ছায়ায় প্রতারণা, শেষ পর্যন্ত কারাগারের পথে প্রভাষক”
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: জাল সনদের মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগ লাভের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার একটি মাদরাসার আরবি বিভাগের প্রভাষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলার তারাগঞ্জ হাটবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মো. আজিজুর রহমান (পিতা-মৃত নমির উদ্দিন)। তিনি তারাগঞ্জ ওয়াকফ এস্টেট কামিল স্নাতকোত্তর মাদরাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে শিক্ষক পদে নিয়োগ লাভের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে রংপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর সি আর-১৪৯/২৫। ওই মামলায় আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ তারাগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কিশোরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম বলেন, “রংপুর আদালতে দায়েরকৃত মামলার পরোয়ানার ভিত্তিতে মো. আজিজুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
এদিকে তারাগঞ্জ ওয়াকফ এস্টেট কামিল স্নাতকোত্তর মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. আব্দুস সালাম জানান, জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর নির্দেশনার আলোকে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে যাচাই-বাছাই চলছিল। তদন্তে প্রাথমিকভাবে সনদের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। আদালতের আদেশের পর পুলিশি তৎপরতার মাধ্যমে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি থানা হাজতে ছিলেন। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মঙ্গলবার (৯ জুন) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত বিষয়টি বিচারাধীন হিসেবে বিবেচিত হবে। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে বলে সচেতন মহল মনে করছে।





