মৎস্যজীবি লীগের নেতা অধ্যক্ষ মোজাম্মেল মাদরাসায় আসেন আর স্বাক্ষর করে চলে যান
শীর্ষ নিউজ, পঞ্চগড়
পঞ্চগড় জেলা মৎস্যজীবি লীগের সহ সভাপতি ও রাজমহল আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক তার মাদরাসায় আসেন আর হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান। মাদরাসাটি বেশির ভাগই ছুটি দেয়া হয় ২/৩ টার সময়।
পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার সাবেক গাড়াতি ছিটমহলে অবস্থিত রাজমহল আলিম মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই মোজাম্মেল হক মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে চাকুরি করে আসছেন। চাকুরির পাশাপাশি তিনি ফ্যাসিষ্ট সরকারের মৎস্যজীবি লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
স্থানীয় লোকজন গণমাধ্যম কর্মীদের দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়েছিল রাজমহল আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক মাদরাসায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে কিছুক্ষন থাকেন তারপর চলে যান। মাদরাসায় অন্যান্য শিক্ষকরাও ঠিকমত মাদরাসায় আসেননা।
স্থানীয় লোকজন আরও জানান, মোজাম্মেল হক এরআগে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় রাজনীতি করার কারনে এবং পদধারী হওয়ার কারনে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পেতনা। উপজেলা কুষকলীগের নেতা ও গাড়াতি ছিটমহলের সাবেক চেয়ারম্যান মফিজার রহমানের ডান হাত হিনেবে কাজ করতো এবং মাদরাসার শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগে লুটপাট করেছিল। এখনো তারা বীরদর্পে প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এঘটনার সত্যতা জানার জন্য ৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় গনমাধ্যম কর্মীরা সরজমিনে রাজমহল আলিম মাদরাসার গেলে অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হককে পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষক হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর রয়েছে। তাতে তার লেখা রয়েছে আগমন ৯টা ৪৫ আর প্রস্থান ৪টা। অথচ ৪টা না বাজতেই সাড়ে ১২টার সময় চলে গেছেন।
রাজমহল আলিম মাদরাসার উপাধ্যক্ষ জানান, অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক মাদরাসায় আসছিল। কিছুক্ষণ আগে তিনি চলে গেছেন। আজকে আর আসবেন না তিনি।
নির্ধারিত সময়ের আগে চলে যাওয়ার বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করলে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক জানান, আমি এক ছাত্রের বাড়িতে আসছি। প্রতিনিয়ত মাদরাসায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, আমি মাদরাসায় কখন আসি আর কখন যাই তা ছাত্রদেরকে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি আরও জানান, আমি সবার আগে মাদরাসায় আসি আর সবার পরে যাই।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রাজমহল আলিম মাদরাসার সভাপতি জাকির হোসেন জানান, বিষয়টি আমি দেখতেছি এবং ব্যবস্থা নিচ্ছি।





