বেনাপোলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত সুরক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদার-বিজিবি’র
জাকির হোসেন,বেনাপোল (শার্শা) প্রতিনিধি:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত পথে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৯ বিজিবি)। আজ বেনাপোল-যশোর মহাসড়ক সংলগ্ন আমড়াখালি বিজিবি চেকপোষ্টে এক সাংবাদিক সন্মেলনে এ কথা জানানো হয়েছে।
শনিবার(৩১ জানুয়ারী) সকাল ১০টার দিকে এই সংবাদ সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকি,এসপিপি,পিবিজিএম,পি
এই সময়ে সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। কোন অবস্থাতেই সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র বা বিস্ফোরক আসতে দেওয়া হবে না। আমরা জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করেছি,সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিজিবি সব সময় জনসাধারণের পাশে আছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে বিজিবি, যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে। গত কয়েক দিনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এসেছে। এর মধ্যে অবৈধ স্বর্ণের বার ও মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
নির্বাচনকালীন সময়ে সীমান্তে যাতে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড না ঘটে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে যাতায়াত এবং বিশেষ করে নির্বাচনের সময় বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ প্রসংগে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও মাননীয় নির্বাচন কমিশনের সকল নির্দেশনা বিজিবি কর্তৃক কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। এ বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া অবাদ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়।
ভোটাররা যেন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন; এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিজিবি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে।
দক্ষিণ পশ্চিম রিজিয়ন, যশোর এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ১৮টি জেলায় ১০৮টি উপজেলার ৬২টি সংসদীয় আসনে ১৮৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা ভেদে সর্বোচ্চ ০৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় ৯৩টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং ১০৮টি উপজেলায় বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ উপজেলাসমূহে ভমিনেশন পেট্রোল এর মাধ্যমে জনমনে আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আপনারা অবগত আছেন যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলাসমূহে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটসহ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ সমন্বিতভাবে সরকার কর্তৃক অর্পিত নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এছাড়াও সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার, অস্ত্র-গোলাবারুদের অনুপ্রবেশ রোধ এবং যেকোন নাশকতা রোখে চেকপোষ্ট স্থাপনের মাধ্যমে নিয়মিত তল্লাশী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ০৩টি জেলায় ১৬টি উপজেলার ১১টি সংসদীয় আসনে প্রায় ৩১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) ১১টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
এছাড়াও যশোর ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) হতে বিশেষায়িত কে-৬ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন রয়েছে। উল্লেখ্য, যেকোন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সংরক্ষণের জন্য ড্রোন ও ঘটি অর্গ ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও অধিক বিজিবি সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে নিযোজিত থাকবে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে।
ঝুঁকি বিবেচনায় সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে থাকবে। উপজেলা ভেদে ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (RAT) এবং হেলিকপ্টারসহ কুইক রেস্পন্স ফোর্স (QRF) প্রস্তুত থাকবে, যারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে বিশেষায়িত K-9 ডগ স্কোয়াড ইউনিটও মোতায়েন থাকবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, দক্ষিণ পশ্চিম রিজিয়ন, যশোর এবং যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। দেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিজিবি সংবিধান ও আইনের আলোকে তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে




