দেশের বৃহত্তম ইফতার মাহফিল সাতক্ষীরা নলতায়
মোঃ খলিলুর রহমান,সাতক্ষীরা ::
সাতক্ষীরা নলতা আহ্ছানিয়া মিশনে প্রতিদিন একসঙ্গে ইফতার করেন ছয় হাজার মুসল্লি। দিনভর ইফতার তৈরিতে চলে বিশাল কর্মযজ্ঞ। মাগরিবের আজানের আগেই দূর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসেন মুসল্লিরা। মহান আল্লাহ’র সন্তুষ্টির আশায় ৯০ বছর ধরে প্রতি রমজানে মাসজুড়ে চলে এ আয়োজন। সরেজমিনে দেখা যায়, ফজরের নামাজের পর থেকেই শুরু হয় বিশাল প্রস্তুতি। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন বাবুর্চি ও কর্মী শিঙাড়া, ছোলা, ডিম সিদ্ধ, ফিরনি, খেজুর, কলা ও চিঁড়া প্রস্তুতে ব্যস্ত থাকেন। বিকেল গড়ালে মিশন প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে মানুষের উপস্থিতিতে। মাগরিবের আগে সারিবদ্ধভাবে বসে পড়েন হাজারো রোজাদার। ইফতার বিতরণে প্রায় ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে লক্ষ্য করা যায় শৃঙ্খলা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। জানা যায়, মিশনের প্রতিষ্ঠাতা খানবাহাদুর আহছানউল্লাহ (রহ.) ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। তাঁর উদ্যোগেই রমজানে গণইফতারের সূচনা হয়। ১৯৫০ সাল থেকে বৃহৎ পরিসরে এই আয়োজন নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। সময়ের ব্যবধানে আয়োজনের পরিধি বেড়েছে, তবে উদ্দেশ্য একই মানুষকে এক কাতারে আনা। দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত বাবুর্চি মো. মুক্তার হোসেন জানান, প্রায় ৪৮ বছর ধরে তিনি এখানে খাবার তৈরির কাজে আছেন। প্রতিদিন সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার শিঙাড়া তৈরি করা হয়। ইফতারে অংশ নেওয়া স্থানীয় শিক্ষক আবু হাসান বলেন, এখানে সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করি। কোনো ভেদাভেদ নেই। এটা শুধু ইফতার নয়, আত্মিক প্রশান্তির জায়গা। ইফতার তৈরি শেষে খাবার বণ্টন করা শুরু করেন স্বেচ্ছাসেবকরা। বিশাল ময়দানে সারি সারি গ্লাস প্লেটে বণ্টন হয় সাত পদের ইফতার। থাকে সিংগাড়া, সিদ্ধ ডিম, কলা, ছোলা, ফিরনি, খেজুর, চিড়া সহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার।মাগরিবের আগেই দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন মুসল্লিরা। ইফতার আয়োজনে অংশ নিতে হাজার হাজার মুসল্লিতে পরিপূর্ণ হয় মাঠ। আহ্ছানিয়া মিশনের এই ময়দানে দৈনিক ইফতার করেন ছয় হাজার মুসল্লি। যার সবটাই আয়োজন হয় দানের অর্থ দিয়ে। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের নলতাআহ্ছানিয়া মিশনের সহকারি সম্পাদক আবুল ফজল বলেন, ইফতার আয়োজনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়। কেউ এই খরচ এককভাবে বহন করেন। আবার কোন কোন দিন অনেকজন সম্মিলিতভাবে এই ব্যয় বহন করেন। বর্তমানে এখানে প্রায় ৩শ’ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে। মিশনের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান, দেশ-বিদেশের ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের আর্থিক সহযোগিতায় পুরো আয়োজন সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন ইফতারের আগে ও পরে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। স্থানীয়দের মতে, নলতা শরীফের এই গণইফতার শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাম্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।





