সারাদেশ

ঝিনাইদহে স্কুল শিক্ষিকার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তোলপাড়

​মোঃ হামিদুজ্জামান জলিল স্টাফ রিপোর্টার।
শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, বরং একটি আদর্শ। কিন্তু সেই আদর্শিক জায়গায় যখন নৈতিকতার প্রশ্ন ওঠে, তখন সমাজ থমকে দাঁড়ায়। ঝিনাইদহের এক স্কুল শিক্ষিকার সাম্প্রতিক একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জেলাজুড়ে বইছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। ঝিনাইদহের ‘চারুগৃহ’ নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা মাওয়া জান্নাত তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ছবি ও কবিতা পোস্ট করেন। ছবিটিতে ফুটে ওঠা দৃশ্য এবং কবিতার শব্দচয়ন নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কবিতার ছত্রে ছত্রে রূপকধর্মী ভাষায় যে ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে, সাধারণ নেটিজেন ও অভিভাবকদের মতে তা অত্যন্ত “কুরুচিপূর্ণ” ও “অশালীন”।
​তার পোস্টে তিনি লিখেছিলেন:
​“…হেঁসেল থেকে দৌড়ে গিয়ে কুঁড়েঘরে মাথা গোজে তারপর শুরু হয় ঝড়… চাষি পরিশ্রমী মাথাল পরে সে মাটি কোপাতে থাকে…”
​অভিভাবকদের উদ্বেগ ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
​পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। একজন সচেতন অভিভাবক, নাসিরুল ইসলাম, ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
​”আমাদের সন্তানরা যেখানে মানুষ হওয়ার শিক্ষা নিতে যায়, সেখানকার একজন শিক্ষকের ফেসবুক ওয়ালে যদি এমন কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত থাকে, তবে কোমলমতি শিশুরা কী শিখবে? এটি কোনোভাবেই শিক্ষকসুলভ আচরণ হতে পারে না।”
​ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, সৃজনশীলতার আড়ালে এই ধরণের বিষয়বস্তু প্রচার করা শিক্ষকতার মতো মহান পেশার মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে এটি শৈল্পিক স্বাধীনতা’
​বিষয়টি নিয়ে মাওয়া জান্নাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোটেও বিচলিত হননি। নিজেকে বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী দাবি করে তিনি বলেন:
​”আমি যা পোস্ট করেছি তা একটি বিখ্যাত পেইন্টিং। যারা শিল্পের ভাষা বোঝে না বা যারা শিক্ষার মানদণ্ডে পিছিয়ে, কেবল তারাই এখানে বিতর্ক খুঁজছে। এটি আমার লেখা ও মত প্রকাশের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।
​চারুগৃহ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আরেফিন অনু জানান, শিক্ষক হিসেবে মাওয়া জান্নাত দক্ষ হলেও তার সোশ্যাল মিডিয়া কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রতিষ্ঠান অবগত নয়। তিনি বলেন, “তিনি ফেসবুকে কী লিখবেন তা তার ব্যক্তিগত বিষয়, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি তার এই ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে একমত নই বলেই তিনি আমার ফ্রেন্ডলিস্টে নেই।”
​শিল্পের দোহাই দিয়ে কি নৈতিকতার সীমারেখা অতিক্রম করা যায়? বিশেষ করে যখন একজন ব্যক্তি শত শত শিক্ষার্থীর রোল মডেল হিসেবে কাজ করেন। ঝিনাইদহের এই ঘটনাটি এখন কেবল একটি ফেসবুক পোস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং সামাজিক মূল্যবোধের ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,