দেবীগঞ্জে মোবাইল আ্যাপ ভিত্তিক পরিমিত সার ব্যবহার ও আলুর প্রদর্শনীর মাঠ দিবস
বক্তারা বলেন, আলু বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত একটি অন্যতম জনপ্রিয় সবজি এবং রপ্তানিযোগ্য একটি অর্থকরী ফসল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৪-এর সর্বশেষ কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১ কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি আলু উৎপাদিত হয় এবং গড় ফলন প্রায় ২২.০ টন প্রতি হেক্টর। দেশের উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে পঞ্চগড় জেলা আলু উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চলতি রবি মৌসুমে (২০২৫-২৬) আলুর প্রদর্শনী ট্রায়ালের ফসল কর্তন ও কৃষক সমাবেশে বক্তারা আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি ব্যবস্থাপনা, মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ এবং পরিমিত সার ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, খামারি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকরা সঠিক ও বৈজ্ঞানিক পরামর্শ পাচ্ছেন, যা উৎপাদন বৃদ্ধি ও ব্যয় হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
বাস্তবায়িত প্রদর্শনী ট্রায়াল হতে দেখা যায়, ইউরিয়া সার খামারি অ্যাপভিত্তিক প্লটে ব্যবহার করা হয়েছে ১৯.১০ কেজি, যেখানে কৃষক প্রয়োগ করেছেন ২২.৭২ কেজি-অর্থাৎ অতিরিক্ত ৩.৬২ কেজি। টিএসপি সার ব্যবহারে পার্থক্য আরও বেশি; খামারি অ্যাপের পরামর্শ ছিল ৬.১৫ কেজি, অথচ কৃষক প্রয়োগ করেছেন ২২.৭২ কেজি-অতিরিক্ত ১৬.৫৭ কেজি। একই ভাবে কৃষক চর্চায় এমওপি ১৪.০৬ কেজি এবং জিপসাম ১.৯৪ কেজি অতিরিক্ত প্রয়োগ করা হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, খামারি’ মোবাইল অ্যাপের পরিমিত সার ব্যবহারের পরামর্শ অনুসরণ করে আলুর চাষে আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া যায়। খামারি অ্যাপভিত্তিক প্লটে ৭৭টি গাছ থেকে ৩৯.০৭ কেজি আলু উৎপাদিত হয়েছে, যেখানে কৃষকের প্রচলিত চর্চায় ৭৯টি গাছ থেকে উৎপাদন হয়েছে ৩৫.১৪ কেজি। অর্থাৎ তুলনামূলক ভাবে বেশি ফলন অর্জিত হয়েছে, যেখানে পরিমিত ও সুষম সার ব্যবহারের ইতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি স্পষ্ট। প্রদর্শনী ট্রায়ালের ফলাফলে প্রতীয়মান হয় কৃষকের গতানুগতিক সার ব্যবহারের তুলনায় খামারি অ্যাপ প্রদত্ত সার সুপারিশ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য হারে সার খরচ সাশ্রয় ও ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভব। ফলশ্রুতিতে সার আমদানি খরচ কমানো এবং বর্ধিত ফলনের মাধ্যমে অর্জিত আর্থিক লাভ দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব রাখবে। খামারি’ মোবাইল অ্যাপের মতো প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ কৃষকদের সঠিক পরামর্শ প্রদান করে টেকসই কৃষি উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের মাঠ দিবস কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।





