পাইলট প্রকল্পের বাইরে তারাগঞ্জ, দ্বিতীয় ধাপে কার্ডের আশায় মানুষ
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে চালু হতে যাওয়া সরকারের নতুন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’-এর দ্বিতীয় ধাপে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশায় দিন গুনছেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেক পরিবারই বর্তমানে আর্থিক সংকটে দিন পার করছে। এ অবস্থায় সরকার ঘোষিত স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধা পেলে সংসার পরিচালনায় অনেকটাই স্বস্তি মিলবে বলে মনে করছেন তারা।
শুক্রবার (৬ মার্চ) তারাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই আশা প্রকাশ করেন, পাইলট প্রকল্পের পরবর্তী ধাপেই যেন তারাগঞ্জ উপজেলাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য মাসিক ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা নগদ সহায়তা অথবা সমমূল্যের বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। একটি পরিবারের নারী সদস্যের নামে কার্ডটি ইস্যু করা হবে, যাতে পরিবারের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হয়। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) দেশের ১৩ থেকে ১৪টি নির্বাচিত এলাকায় এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।
তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বাসিন্দা মোবারক আলী বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। বাজারে চাল-ডালের দাম অনেক বেড়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেলে সংসার খরচ চালাতে অনেকটা সুবিধা হবে। সরকার যদি তারাগঞ্জেও দ্রুত এই সুবিধা চালু করে, তাহলে আমরা উপকৃত হব।”
একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন কুর্শা ইউনিয়নের মালতি বালা। তিনি বলেন, “মহিলাদের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা শুনছি। আমরা যদি এই কার্ড পাই, তাহলে সংসার চালাতে অনেক সহায়তা হবে। তারাগঞ্জে যেন দ্রুত এই সুবিধা চালু করা হয়।”
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও এ কর্মসূচিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কুর্শা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম সরকার বলেন, “স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে আমাদের সরকার আগামী চার মাসের একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আমরা আশা করি, প্রকল্পটি সফল হবে এবং পরবর্তী ধাপেই তারাগঞ্জ উপজেলাকে এই সেবার আওতায় আনা হবে।”
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, “নবনির্বাচিত সরকার নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আনতে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করছে। ইতোমধ্যে ১৪টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে যদি তারাগঞ্জ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে এখানকার অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ উপকৃত হবে।”
তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাববর হোসেন বলেন, “সরকার স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় এই মাস থেকেই নির্বাচিত কয়েকটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি, পরবর্তী ধাপেই তারাগঞ্জ উপজেলাও এই কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করতে পারে। তাই দ্রুত তারাগঞ্জ উপজেলাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা।





